জামালদহ: মাস তিনেক ধরে সমস্যার সূত্রপাত। কখনও এক ঘন্টার লোডশেডিং, কখনও বা দু ঘন্টার, কখনও বা দিনভর বিদ্যুৎ সংযোগ থাকে না গ্রামে। এই বিষয়ে একাধিকবার বিদ্যুৎ দপ্তরে যোগাযোগ করেও নাকি কাজ হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। আর সেই সমস্যার জেরেই এদিন বিদ্যুৎ দপ্তরের গাড়ি আটকে বিক্ষোভে সামিল হলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। ঘটনাটি মেখলিগঞ্জের (Mekhliganj) বকনাগারটারি ও হাঁড়িরবান এলাকার।
জানা গিয়েছে, গতকাল থেকে এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন (Energy Reduce) ছিল। এদিন,বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীদের গাড়ি সেখানে পৌঁছালে সেই গাড়ি আটকে বিক্ষোভ (Public Outrage) শুরু হয়। সোমবার বিকেল চারটা থেকে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ চলে রাত সাতটা পর্যন্ত। বিক্ষোভের দরুন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ। পুলিশের আশ্বাসে বিক্ষোভকারীরা তাদের অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ায়। স্থানীয়দের দাবি, ট্রান্সমিটার বিকল থাকলে তা সরিয়ে নতুন ট্রান্সমিটার বসিয়ে দেওয়া হোক।
এদিন বিক্ষোভকারীদের মধ্যে কৃষ্ণ বর্মন জানান, তাদের গ্রামে বারবার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মাসের পর মাস তারা ভোগান্তিতে রয়েছেন ।বিদ্যুৎ দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনও লাভ হয়না। এদিন বিদ্যুৎ দপ্তরের গাড়ি আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তারা চান এরকম সমস্যা যাতে আর না হয়।
বিক্ষোভে শামিল হয়ে এলাকার বাসিন্দা মিনতি বর্মন জানান, বারবার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ছেলে মেয়েরা পড়াশুনা করার সময়,এমনকি তারা যখন রান্না করেন সেই সময় বিদ্যুৎ থাকে না। চরম সমস্যায় পড়তে হয় তাদের। বারবার বিদ্যুৎ দপ্তরে জানানো হলেও কোনও কাজ হয় না। তাই তারা এদিন বিক্ষোভে সামিল হন।
এই বিষয়ে ঘটনাস্থলে থাকা বিদ্যুৎ দপ্তরের ইলেকট্রিশিয়ান তাপস রায় বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মেন লাইনে সমস্যা হয়। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে বা ট্রান্সমিটারে কোনও সমস্যা হলে টোল ফ্রি নাম্বারে কল করে যোগাযোগ করতে হয়। কিন্তু সেটাও করা হয়নি। এই বিষয়ে যা বলার তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই বলবে। এই বিষয়ে বিদ্যুৎ দপ্তরের উচ্চ আধিকারিকদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও, যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

