উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আমেরিকা ও ইরানের চলমান আলোচনার মাঝেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল মধ্যপ্রাচ্যে। সোমবার হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের সামরিক বাহিনী ইসলামিক রিভলিউশনারি গার্ড কোরের (IRGC) নৌযান এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র (Iranian Missile Websites) লক্ষ্য করে ‘আত্মরক্ষামূলক’ হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী (US Strikes)। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) ইরানের দুটি নৌকা মাইন পাতার চেষ্টা করছিল। একইসঙ্গে বন্দর আব্বাসে থাকা একটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে মার্কিন যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করে আঘাত হানার চেষ্টা করলে মার্কিন বাহিনী পালটা আক্রমণ করে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই হামলায় ইরানের ওই নৌযান ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রটি ধ্বংস হয়েছে। ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমেও বন্দর আব্বাস, সিরিক ও জাস্ক উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় বিস্ফোরণের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।
তবে এই সামরিক পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হলেও, মার্কিন প্রশাসনের দাবি এটি কেবলই ‘সীমিত আকারের’ আত্মরক্ষামূলক হামলা। তাদের মতে, এটি চলমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার কোনও সংকেত নয় এবং আপাতত হামলা বন্ধ রয়েছে।
অন্যদিকে, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের অথবা আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে ধ্বংস করার দাবি জানিয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হয় আমেরিকায় নিয়ে এসে ধ্বংস করতে হবে, নয়তো তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারিত স্থানেই তা নষ্ট করতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একাধারে সামরিক চাপ তৈরি করা এবং অন্যদিকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডের পরিধি বাড়িয়ে ইরানকেও আঞ্চলিক শান্তি কাঠামোর আওতায় আনার ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী কৌশল বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল করে তুলেছে।
