শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি: কেজিএফ গ্যাং নিয়ে বিতর্কে এবার নাম জড়াল মেয়র গৌতম দেবের (Gautam Deb)। গত ২৬ তারিখ মেয়র নিজের ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে দেখা যায়, মেয়রের সঙ্গেই চলছেন কেজিএস গ্যাংয়ের একাধিক সদস্য। এমনকি ওই সদস্যদের মধ্যে ছিল সেবক রোডে রামকৃষ্ণ কাণ্ডে জড়িত অন্যতম অভিযুক্তও। এই ভিডিওকে কেন্দ্র করে শহরে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয় (KGF Gang controversy)। কেজিএফ গ্যাং নিয়ে চলা তীব্র বিতর্কের মধ্যেই গৌতম দেবের ওই ভিডিও, আদতে গ্যাং সদস্যদের পাশে থাকারই বার্তা কি না, তা নিয়ে বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলতে শুরু করে। বিতর্কের বিষয়টি কানে আসতেই চরম অস্বস্তিতে পড়েন মেয়র। এদিন সন্ধ্যায় তড়িঘড়ি তিনি সেই ভিডিও ডিলিট করেন। তঁার বক্তব্য, ‘আমি ওদের কাউকেই চিনি না। কীভাবে ওরা ওখানে এল, তা নিয়ে ওয়ার্ড কমিটির সঙ্গে কথা বলব। আমি ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসনকে বলেছি, সেবক রোডের ব্যাপারে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’
এদিকে, মেয়রের পোস্ট নিয়ে সুর চড়াচ্ছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। শিলিগুড়ির বিধায়ক বিজেপির শংকর ঘোষের বক্তব্য, ‘আমি বরাবরই বলে এসেছি, শহর ও শহর সংলগ্ন এলাকায় গ্যাং কালচারের পৃষ্ঠপোষক খোদ মেয়রই। ওঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে উনি কীভাবে গ্যাং ক্যালচারকে প্রাধান্য দিয়েছেন, সেটা এবার সাধারণ মানুষের ভাবনার ওপরই ছেড়ে দিচ্ছি।’
পুরনিগমে সিপিএমের পরিষদীয় দলনেতা শরদিন্দু চক্রবর্তীর বক্তব্য, ‘রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসীদের তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আমি পুরনিগমের বোর্ড মিটিংয়ে সরব হয়েছিলাম। অথচ সেই ঘটনায় অন্যতম মূল অভিযুক্তকে গৌতম দেবের পেজে শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে। এর থেকে লজ্জাজনক আর কিছু হতে পারে না। আসলে, গোটা রাজ্যে এই ধরনের জমি মাফিয়া গ্যাংই এখন দৌরাত্ম্য করছে। শাসকদলের অঙ্গুলিহেলনেই সমস্তটা হচ্ছে।’
জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর কেজিএফ গ্যাংয়ের নতুন পদ্ধতিতে ত্রাস সৃষ্টির খবর প্রকাশ্যে আসতেই শহরজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ওই গ্যাং সদস্যদের মাথার ওপর শহরের একাধিক নেতা-নেত্রীর হাত থাকার বিষয়টিও ইতিমধ্যেই সামনে এসেছিল। এবারে তার ছবি-ভিডিও প্রকাশ্যে আসছে। একাধিক মেয়র পারিষদ জড়িত থাকার বিষয়টা প্রকাশ্যের পাশাপাশি একটি ছবিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে, তৃণমূলের ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের পার্টি অফিসে ওয়ার্ড কাউন্সিলার তথা মেয়র পারিষদ শোভা সুব্বা মিটিং করছেন। সেখানে উপস্থিত রয়েছে রামকৃষ্ণ মিশন কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত এবং কেজিএফ গ্যাংয়ের অন্যতম এক মাথা।
তবে তারা শুধু শাসকদলের মিটিংয়েই নয়, এত বিতর্কের মধ্যেও ওই এলাকায় চলা ওয়ার্ড উৎসবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। গত ২৫ তারিখ ওই ওয়ার্ডের অনুষ্ঠানে গিয়েই বিতর্কে জড়িয়েছেন মেয়র। ওয়ার্ড কাউন্সিলার তথা মেয়র পারিষদ শোভার অবশ্য বক্তব্য, ‘ওরা তো হিটলিস্টে রয়েছে। আসলে ওরা সুবিধাবাদী। ওরা যে কখন মেয়রের পেছনে চলে এসেছে, আমি তো বুঝতেই পারিনি। ওদের মধ্যে একজন আমার ওয়ার্ডে থাকে। এখন ওরা কখন, কীভাবে আমার অফিসে এসেছে, সেটা আমার জানা নেই। ওরা আমাদের ওয়ার্ড কমিটিতেও নেই। আমাদের দলও করে না।’
