রবিবার যুবভারতীতে আইএসএলের ‘শিরোপা নির্ধারণী’ ডার্বিতে মুখোমুখি হচ্ছে মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গল। যে জিতবে, এবারের আইএসএল জয় প্রায় নিশ্চিত করে ফেলবে সেই দল। এমন একটা ম্যাচের আগে উন্মাদনা তুঙ্গে। টিকিটও নিঃশেষিত। এমন একটা ম্যাচের আগে কী বললেন দুই প্রধানের কোচ?
ডার্বির আগে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে প্রয়াত মোহন সিং এবং স্বপনসাধন বোসের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এদিন ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোর সঙ্গে এসেছিলেন মহম্মদ রশিদ। ডার্বিকে এশিয়ার অন্যতম বড় ম্যাচ হিসাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এমন ম্যাচে খেলতে এবং সেই আবহ উপভোগ করতে সব ফুটবলারই আগ্রহী থাকে। দারুণ পরিবেশের মধ্যে মাথা ঠান্ডা রেখে খেলাই দলের লক্ষ্য। সল ও মহেশকে না পাওয়া অবশ্যই একটা ক্ষতি। তবে যারা মাঠে নামবে, তাদের কোচের পরিকল্পনা মেনে পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে নিজেদের সেরাটা দেওয়াই মূল লক্ষ্য।”
আরও পড়ুন:
ডার্বির আগে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে প্রয়াত মোহন সিং এবং স্বপনসাধন বোসের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। লাল-হলুদ কোচ স্পষ্ট করে জানান, এই মুহূর্তে দলের একমাত্র লক্ষ্য ডার্বি।
এরপর লাল-হলুদ কোচ স্পষ্ট করে জানান, এই মুহূর্তে দলের একমাত্র লক্ষ্য ডার্বি। ব্রুজো বলেন, “এখানে ব্যক্তি, ক্লাব কর্তৃপক্ষ বা স্পনসর, কিছুই গুরুত্বপূর্ণ নয়। সবচেয়ে জরুরি ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামা। গত কয়েক বছরে দল কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে গুয়েছে। বিশেষ করে ফুটবলারদের মানসিক অবস্থায় তার প্রভাব পড়েছিল। তবে এখন দল ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং জয়ের মানসিকতা তৈরি হয়েছে। প্রায় দু’দশক আমরা লিগ পাইনি। এই মুহূর্তে আমরা শিরোপা জয়ের কথা বলতে পারি। আবার পঞ্চম স্থানে শেষ করার কথাও বলতে পারি। এটাই তো বাস্তবতা। এই ডার্বি আর পাঁচটা ম্যাচের মতোই একটি ম্যাচ। এর জন্য গুরুত্ব দিয়েব আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি।”
ডার্বি জেতার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বাগান কোচ সের্জিও লোবেরাও। তাঁর কথায়, “শিরোপা জিততে গেলে ইস্টবেঙ্গলের মতো প্রতিপক্ষ চাই। ওদের বিরুদ্ধে খেলা খুবই চ্যালেঞ্জিং। মনে রাখতে হবে ওরা কিন্তু আইএসএল ইতিহাসে অন্যতম সেরা দল। এই মুহূর্তে ইস্টবেঙ্গল সেই জায়গাতেই রয়েছে, যেখানে তাঁদের থাকা উচিত। তবে আমরা এই ম্যাচ ফাইনাল মনে করেই খেলব। ফুটবলার থেকে কোচ, এমন ম্যাচে সবাই খেলতে চায়। আমাদের হাতে ভালো ফুটবলার রয়েছে। ডার্বি বরাবরই অনুপ্রেরণা।”
ডার্বি জেতার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বাগান কোচ সের্জিও লোবেরাও। তাঁর কথায়, “শিরোপা জিততে গেলে ইস্টবেঙ্গলের মতো প্রতিপক্ষ চাই।”
লোবেরা আরও বলেন, “আমাদের সামনে দারুণ একটা সুযোগ এসেছে, সকলকে দেখানোর, আমরা ট্রফি জিততে পারি। কাগজে-কলমে সবকিছুই নিখুঁত দেখায়। ট্যাকটিক্স বোর্ডও দারুণ দেখায়। কিন্তু মাঠের খেলাই আসল। মাঠই জবাব দেওয়ার আসল মঞ্চ।” অনেকেই বলছেন, অন্তত এই ডার্বির ক্ষেত্রে ইস্টবেঙ্গল মানসিকভাবে মোহনবাগানের থেকে এগিয়ে রয়েছে। লোবেরার সঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলনে এসেছিলেন মোহনবাগান ডিফেন্ডার আলবার্তো রডরিগেজ। তিনি অবশ্য এমনটা মনে করেন না। তিনি বলেন, “মনস্তাত্ত্বিকভাবে ওরা এগিয়ে আছে, এটা আমি মনে করি না। আমরাও জেতার জন্য লড়াই করব।”
সবুজ-মেরুন শিবিরে সবচেয়ে ইতিবাচক ছবি, আপুইয়ার পুরোদমে অনুশীলন। আগের ইন্টার কাশী ম্যাচে তিনি ছিলেন না। সেই ম্যাচে মাঝমাঠ একেবারে অবিন্যস্ত দেখিয়েছে। আশা করা যাচ্ছে আপুইয়া ফিরছেন। ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে ছিলেন না আলবার্তো রডরিগেজও। তিনিও এই ম্যাচে ফিরছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে রবিবার ডার্বিতে মোহনবাগান রক্ষণে টম অলড্রেড ও আলবার্তো থাকবেন। লোবেরার বড় চিন্তা আক্রমণভাগ সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত গোল না পাওয়া। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার ইস্টবেঙ্গলে অনুশীলন করেননি প্রভসুখন গিল। চিন্তা বেড়েছিল লাল-হলুদ সমর্থকদের। তবে শুক্রবার পুরোদমে ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার অনুশীলন করেন। বহুবছর পর লিগ চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে ইস্টবেঙ্গল। স্বাভাবিকভাবেই লাল-হলুদ সমর্থকরা উজ্জীবিত। এদিন অনুশীলনেও দেখা গেল সেই চিত্র। সম মিলিয়ে দুই স্প্যানিশ কোচের মগজাস্ত্রের লড়াই দেখতে মুখিয়ে দুই দলের সমর্থকরা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
