গঙ্গারামপুর : বুনিয়াদপুরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) কর্মীসভার অনুমতি দিয়েও প্রত্যাহার করল স্থানীয় প্রশাসন। আর এতেই শেষ পর্যন্ত দ্রুত গঙ্গারামপুর ব্লকের নন্দনপুর অঞ্চলের বিকইর এলাকায় দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি মৃণাল সরকারের বাড়িতে কর্মীসভা করলেন তৃণমূল নেতৃত্ব।
আর এই বিকল্প মঞ্চ থেকেই বিরোধীদের বিরুদ্ধে রীতিমতো সুর চড়ান কল্যাণ। তাঁর আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ ডঃ সুকান্ত মজুমদার এবং এককালের রাজনৈতিক সতীর্থ, বর্তমানে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি বিপ্লব মিত্র। প্রশাসনের এই সভা বাতিলের সিদ্ধান্তের নেপথ্যে বিজেপির ভয় কাজ করছে বলে দাবি করেন তৃণমূল সাংসদ। সরাসরি সুকান্ত মজুমদারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “সুকান্ত মজুমদার(Sukanta Majumdar) দক্ষিণবঙ্গে গিয়ে বড় বড় কথা বলেন। কিন্তু ওনার নিজের জায়গাতেই তো ভয়ে ভরে আছে। উনি ভয় পেয়েছেন। বিরোধী দলের কেউ এসে যদি ভাষণ দিয়ে যান, তাই তিনি আমাদের বক্তব্য রাখতে দেবেন না । জো ডর গ্যায়া, ও খতম হো গ্যায়া।” একইসঙ্গে জেলার পুলিশ সুপারকে বিজেপির জেলা সভাপতি এবং বিভিন্ন থানার ওসি ও আইসিদের ব্লক স্তরের ক্যাডার বলে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। ভবিষ্যতে পুলিশ অনুমতি না দিলে বিনা অনুমতিতেই কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারিও শোনা যায় তাঁর গলায়।
তবে কল্যাণের আক্রমণের ঝাঁজ থেকে রেহাই পাননি তাঁর মাত্র ছ’মাস আগের সতীর্থ বিপ্লব মিত্রও(Biplab Mitra)। তাঁকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে কল্যাণ বলেন, “উনি তো শুধু নিজে আর নিজের ভাইকে ছাড়া কাউকে জানেন না । বিপ্লব মিত্র একবার খাম চিহ্ন ( গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান প্রতীক) নিয়ে জিতে দেখান। তবেই না তাকে মরদের বাচ্চা ভাববো।”
এই আক্রমণের কড়া জবাব দিতে অবশ্য সময় নেননি বিপ্লব মিত্র। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “এ বিষয় নিয়ে আর কী বলার থাকতে পারে বলুন তো ? এটা কি আমার দেখানোর আছে? যখন দেখানোর ছিল তখন দেখিয়েছি। তিন-তিনবার ভোটে জিতে। উনি কী কারণে আমার বিরুদ্ধে এমন বলেছেন সেটা আমি বলতে পারব না। ওনাদের লড়াইটা আসলে কার সঙ্গে? আমার বিরুদ্ধে বলে লাভটা কী? উনি তো এখানকার পলিটিক্সটা করেন না।” এখানেই না থেমে তিনি আরও যোগ করেন, “ওনারাও যে ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক নিয়ে লড়াই করছেন, সেটাতে ওনারা জিতে দেখান। কেউ তো এখনও পরীক্ষিত নন। সেটা পরবর্তীতে দেখা যাবে। শুধু শুধু ফালতু কথা বলে তো কোনও লাভ নেই। ওনারা ওনাদের মিটিং করতে এসেছিলেন, ওনাদের মিটিং করে গেছেন। এ নিয়ে আমাদের কোনও বিরোধিতা নেই, আবার প্রকাশ্যে সমর্থনেরও ব্যাপার নেই। ওনারা ওনাদের দলকে কীভাবে সংগঠিত করবেন, সেটা ওনাদের ব্যাপার।”
এদিনের বৈঠকে দলের কর্মীদের মনোবল বাড়াতে কল্যাণ দাবি করেন যে সাধারণ মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই আছেন। শুভেন্দু অধিকারী ভোট চুরি করে ক্ষমতা দখল করেছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর মতে, বিজেপি এখন ভীত এবং তাদের শেষের দিন ঘনিয়ে এসেছে। বিকইরের এই কর্মসূচিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কুমারগঞ্জের বিধায়ক তোরাফ হোসেন মণ্ডল, প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা গঙ্গারামপুরের(Gangarampur) প্রাক্তন বিধায়ক গৌতম দাস, প্রাক্তন জেলা সভাপতি মৃণাল সরকার এবং সদ্য প্রাক্তন জেলা সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল-সহ মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের বিশিষ্ট নেতৃত্ব।
