France defeated Norway due to Ousmane Dembele’s hat-trick

France defeated Norway due to Ousmane Dembele’s hat-trick

জীবনযাপন/LIFE STYLE
Spread the love


ফ্রান্স ৪ (দেম্বেলে হ্যাটট্রিক, দুয়ে)
নরওয়ে ১ (আসগার্ড)

উসমানে দেম্বেলেকে নিয়ে মাস ছয়েক পূর্বে একখানা অসামান‌্য লেখা লিখেছিলেন ব্রিটিশ ফুটবল সাংবাদিক বেন লিটলটন। বিলেতের বিখ‌্যাত কাগজ ‌‘দ‌্য গার্ডিয়ানে’। লিখেছিলেন যে, আজ থেকে প্রায় এক যুগ আগে ফুটবল পৃথিবীর উদীয়মান নক্ষত্রদের নিয়ে তাঁকে একটা লেখা লিখতে বলেছিল অফিস। যাঁদের পা ভবিষ‌্যতের ফুটবল মাঠ শাসন করবে। তা, বিস্তর খুঁজে পেতে সাতানব্বইয়ের ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করা এক কিশোরকে খুঁজে পেয়েছিলেন লিটলটন সাহেব।

আরও পড়ুন:

যে লিকলিকে। যে কৃষ্ণকায়। যাঁর নাম উসমান দেম্বেলে!

ছানবিন পর্বে নিজের কাছে একটা প্রশ্ন রেখেছিলেন ব্রিটিশ সাংবাদিক। কোন গুণাবলিতে একজন ভালো প্লেয়ার গ্রেট হয়? আর খেলায় ঠিক কী উপকরণ থাকলে, গ্রেট হয় বেস্ট? গভীর ‘ময়নাদতদন্ত’ শেষে পাঁচ জন নতুন জ‌্যোতিষ্ককে নিয়ে একটা তালিকা তৈরি করেছিলেন লিটলটন সাহেব। উঁহু, কে কত প্রতিভাবান, সে সমস্ত ধর্তব‌্যেই রাখতে চাননি তিনি। রেখেছিলেন গোটা সাতেক বিষয়: রেসিলিয়েন্স। অ‌্যাডাপ্টিবিলিটি কিংবা মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। চটজলদি সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা। শিল্প। ওয়ার্ক এথিক কিংবা পরিশ্রমের খিদে। ঝটকা খেলে পালটা দেওয়ার ধক। এবং শেখার আগ্রহ। ভদ্রলোকের ব‌্যাখ‌্যা ছিল, প্রতিভাকে কখনও ব‌্যালান্স শিটে তোলা যায় না। তাই কে কত প্রতিভাবান, তা নিয়ে চূড়ান্ত রায় নির্ধারণ মূর্খামি। কিন্তু বাদবাকিগুলো যায়। আর সে বিচারে দেম্বেলে ছাড়া আর কোনও নাম তিনি পাননি।

ছবি সংগৃহীত।

স্মরণে রাখতে হবে, সেই সময় ফরাসি ক্লাব রেনের প্রথম একাদশে পর্যন্ত সুযোগ পাননি দেম্বেলে। পরবর্তী সময়ে পরপর দু’বার চ‌্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা, ব‌্যালন ডি’অর জয়– কিস‌্যু ঘটেনি। বছর এগারো-বারো পর লিটলটন সাহেবের সেই নিখুঁত বিচার মিলে যেতে, পিএসজি জার্সি গায়ে দেম্বেলে চ‌্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় করতে, ফের ডাকা হয় তাঁকে। লেখানো হয়। এবং লেখার ফাঁকে একটা অসামান‌্য লাইন লিখে দেন ব্রিটিশ ভদ্রলোক। লেখেন যে, উত্তুঙ্গ সাফল‌্যের গতিপথকে সব সময় ট্রেন লাইনের মতো সরলীকরণ করা উচিত নয়। কখনও কখনও উসমান দেম্বেলের মতো তা যে উত্থান-পতনের উঁচু-নিচু পথ ধরবে না, গ‌্যারান্টি নেই।

গাওয়া ঘি-র মতো যা শত ভাগ খাঁটি। শুক্রবার গভীর রাতে নরওয়ের বিরুদ্ধে খেলার মাত্র ৩২ মিনিটের মধ‌্যে দেম্বেলের তিন-তিনটে চোখ জুড়োনো গোল শেষে গ‌্যালারির নীল-সমুদ্রের হুল্লোড় দেখে মনে হচ্ছিল, সমর্থনের চেয়ে বিভ্রান্তিকর বস্তু বোধহয় এ পৃথিবীতে আর হয় না! ফ্রান্সের ‘কালো মানিক’-এর হ‌্যাটট্রিক দেখে যাঁরা স্টেডিয়ামে গলা ছেড়ে ‘আলে ল‌্যে ব্লু’ গাইছিলেন, তাঁরা যে সর্বক্ষণ হৃদয়ের বাঁদিকে দেম্বেলেকে রাখেন বা রেখেছেন, এ ‘অপবাদ’ ঘোর শত্তুরেও দিতে পারবে না! স্টুডিওয় দেখলাম, জার্মানির কিংবদন্তি গোলকিপার অলিভার কান চিবিয়ে-চিবিয়ে বলছেন, ‘‘ছেলেটাকে তো কোনও কালে মর্যাদাই দিল না ফ্রান্স! চিরকাল শুধু ক্রিটিসাইজ করে গেল।’’ যা নির্ভেজাল সত‌্যি। অমিত প্রতিভাবান হওয়া সত্ত্বেও কখনও ফরাসিদের প্রিয় ‘আতর’ হয়ে উঠতে পারেননি দেম্বেলে। তা গত সাত-আট বছর ধরে বরাবর থেকেছেন কোনও এক কিলিয়ান এমবাপে। দেম্বেলে নিয়ে ফরাসি ফুটবল জনতার ঘোর অনুযোগ ছিল, প্রতিভার প্রতি কখনও সুবিচার করতে পারেননি তিনি। ধারাবাহিকতার চরম অভাবে নিজে ভুগেছেন। টিমকেও ভুগিয়েছেন। মাঝেমাঝেই চোটে ভোগেন তার উপর। ডিফেন্সিভ কোয়ালিটি নেই। দলের প্রয়োজনে ‘ট্র্যাক ব‌্যাক’ করতে পারেন না। সহস্র অভিযোগ। সহস্র।

অপার্থিব হ‌্যাটট্রিকে দেম্বেলের নরওয়েকে দেম্বেলে ওড়ানোর পর মনে হচ্ছে, উপরোক্ত সমস্ত অভিযোগ-রাগ-ক্ষোভ এক লহমায় এবার সিয়েনের জলে ধুয়েমুছে যাবে। মানছি, নরওয়ে এ দিন প্রথম একাদশে আর্লিং হালান্ডকে রাখেনি। সোরলথকে রাখেনি। ওডেগার্ডকে রাখেনি। বাট ওয়ার্ল্ড কাপ হ‌্যাটট্রিক ইজ ওয়ার্ল্ড কাপ হ‌্যাটট্রিক। দেম্বেলে বাদে ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে মাত্র দু’জনের হ‌্যাটট্রিক রয়েছে। কিলিয়ান এমবাপে এবং কিবদন্তি জাঁ ফঁতে।

ছবি সংগৃহীত।

আর সে হ‌্যাটট্রিকের কী অসামান‌্য রূপ, কী তার অনির্বচনীয় তেজ! এ দিন ফ্রান্স-নরওয়ে খেলার ৭ মিনিটের মাথায় দেম্বেলেকে নিশানা করে একটা দুর্ধর্ষ পাস দেন এমবাপে। ফরাসি উইঙ্গার নরওয়ে নেটের বাঁ দিক কাঁপিয়ে দিতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি। ২০ মিনিটে ফের মাঠের ডান দিক থেকে ‘কাট’ করে দেম্বেলের চিতা-ক্ষিপ্রতায় বক্সে ছিটকে ঢোকা, ফের জোরালো শট এবং আবার গোল! বাহাত্তর সেকেন্ডের মধ‌্যে একটা প্রত‌্যুত্তর দিয়েছিল নরওয়ে। আসগার্ডের গোলে। কিন্তু তা মোটেই দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। উলটে ৩২ মিনিটের মধ‌্যে হ‌্যাটট্রিক-সম্পন্ন এবং ইতিহাসে নাম লেখানো। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম হ্যাটট্রিক এটা। এই তালিকায় শীর্ষে হাঙ্গেরির লাসলো কিস। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে এল সালভাদরের বিপক্ষে ম্যাচের শেষদিকে পরিবর্ত হিসাবে নেমে মাত্র ৭ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে হ্যাটট্রিক করেছিলেন লাসলো। ১৯৯৪ সালের পর এই প্রথম কোনও খেলোয়াড় বিশ্বকাপের প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক করলেন। শেষে আবার স্কোরলাইনকে ৪-১ করে দিলেন ফ্রান্সের দেজিয়ের দুয়ে।

বিশ্বকাপে এত দিন একা চার গোল করে ফ্রান্সকে টানছিলেন একা এমবাপে। বিপক্ষকে কাঁদিয়ে। শুক্রবারের পর থেকে তাঁর সঙ্গে জুড়লেন দেম্বেলে। আজকের পর তাঁরও চলতি বিশ্বকাপে গোল-সংখ‌্যা একই– চার। আইপিএল বোলারদের মতো বিশ্ব ফুটবলের ডিফেন্ডারদের কথা ভেবে দুঃখই লাগছে। অ‌্যাদ্দিন এমবাপেকে আটকাতেই প্রাণ পাখি ফুরুতের দশা হত, এবার তাঁর সঙ্গে জুড়লেন দেম্বেলে।

অগত‌্যা?

অগত‌্যা, কী আর? সামলাও হে বিশ্বের ডিফেন্ডারকুল, পারলে সামলাও। দেম্বেলে ধেয়ে আসছে, সঙ্গে আসছে এমবাপে।

আসছে ‘দে-ম্বাপে’!

গ্রুপ ‘আই’-এর অপর ম্যাচে ইরাককে ৫-০ গোলে হারিয়ে নকআউটের আশা বাঁচিয়ে রাখল সেনেগাল। তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোর টেবিলে পাঁচে ‘তেরেঙ্গানা লায়ন্সরা’। পরের রাউন্ড নিশ্চিত করতে হলে অন্য দলগুলোর ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে তাদের। অন্যদিকে, গ্রুপ পর্বের সবক’টি ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হল ইরাকের। 

আরও পড়ুন:

সর্বশেষ খবর

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন





Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *