রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ শহরের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলর অর্ণব মন্ডল ওরফে বান্টির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে জেলা আদালত (Former Councillor Arrest Warrant)। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৯৭, ৩১৮(২), ৩১৮(৪), ৩৩৬(৩), ৩৪০(২) সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর অভিযুক্তকে পাকড়াও করতে জেলাজুড়ে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
অভিযুক্ত প্রাক্তন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। তার বিরুদ্ধে জলাশয় ভরাট করে বেসরকারি নার্সিংহোম ও প্যাথলজি নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি খাস জমি প্লট করে বিক্রি করার অভিযোগও সামনে এসেছে। ২০১৭ সালে অর্ণব মন্ডল ও তাঁর স্ত্রী পায়েল মন্ডল কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এলাকায় তাঁর রকেটের গতিতে উত্থান ঘটে। অর্ণবের বিরুদ্ধে একাধিক খুন ও খুনের চেষ্টার মামলা রয়েছে। পুলিশি গোয়েন্দা সূত্রের খবর, তার নিজস্ব প্রায় ৫০ জনের একটি অস্ত্রধারী দুষ্কৃতী বাহিনী রয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছে ভদং আলীর মতো কুখ্যাত অপরাধীরা।
রায়গঞ্জ শহরে একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি ছাড়াও শিলিগুড়ি ও কলকাতায় অর্ণব মন্ডলের একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। চিকিৎসকদের সঙ্গে পার্টনারশিপে তার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যও গড়ে উঠেছে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, রাজ্য সরকার পরিবর্তনের পর চাপের মুখে পড়ে অভিযুক্ত অর্ণব মন্ডল বর্তমানে নেপালে আত্মগোপন করে রয়েছে। তার সঙ্গে একাধিক দুষ্কৃতীও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
রায়গঞ্জ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ডাঃ সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ জানিয়েছেন, “অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হুলিয়া বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। অর্ণব মন্ডলকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি তল্লাশি চলছে।” আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্তের সমস্ত ডেরা ও সম্ভাব্য গোপন আস্তানায় নজরদারি বাড়িয়েছে। এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় রায়গঞ্জের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

