উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: পঁচিশ বছর আগে ব্রুকলিন বিমানবন্দরে এক অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে যদি বিমানে ওঠার অনুমতি দেওয়া হত, তাহলে হয়তো শুক্রবার রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসের গ্যালারিতে বসে থাকা টম ক্রুজ বা ডেভিড বেকহ্যামদের এমন উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়া হত না। ফ্লোরেন্স বালোগুন (Folarin Balogun) নামের সেই তরুণী লন্ডন থেকে নিউ ইয়র্কে এসেছিলেন ছুটি কাটাতে। কিন্তু ফেরার সময় মেডিকেল ক্লিয়ারেন্স না থাকায় তাঁকে বিমানে উঠতে দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে ব্রুকলিনে আত্মীয়ের বাড়িতে থেকে যান তিনি, আর সেখানেই জন্ম নেয় এক শিশু-ফোলারিন বালোগুন।
মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পরিবার ফিরে যায় লন্ডনে। নাইজিরীয় বাবা-মায়ের সন্তান ফোলারিনের বেড়ে ওঠা, ফুটবলে হাতেখড়ি, আর্সেনালের অ্যাকাডেমিতে নিজেকে প্রমাণ করা- সবই ওই ইংল্যান্ডে। কিন্তু রক্তে নাইজিরিয়া আর বড় হওয়া ইংল্যান্ডে হলেও, জন্মসূত্রে পাওয়া আমেরিকার প্রতি তাঁর একটা আলাদা টান ছিল। মা ফ্লোরেন্স সবসময় ছেলেকে বলতেন, তাঁর ব্রুকলিনে আটকে পড়া আর সেখানে ফোলারিনের জন্ম নেওয়ার পেছনে নিশ্চয়ই ভাগ্যের কোনও গভীর ইঙ্গিত লুকিয়ে আছে।
সেই ইঙ্গিত আজ বাস্তবের সবুজ গালিচায় এক নিখুঁত রূপকথায় পরিণত হয়েছে। ২০২৩ সালে আমেরিকার হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন ফোলারিন। আর আজ, ১৯৩০ সালের পর আমেরিকার প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের এক ম্যাচে জোড়া গোল করার অনন্য রেকর্ড তাঁর নামের পাশে। ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত বালোগুনের গলায় শোনা গেল সেই দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নপূরণের তৃপ্তি। এক মায়ের ফেলে আসা ফ্লাইট আর অদম্য বিশ্বাস, আজ আমেরিকার ফুটবলের সবচেয়ে সুন্দর গল্পটা লিখে ফেলল।
