Flydubai flight incident | ‘ঘুমোবেন না, আপনাকে আমাদের প্রয়োজন’, ৪৫ মিনিটের লড়াইয়ে স্মিতের প্রাণ বাঁচালেন বিমানে থাকা চিকিৎসক

ব্লগ/BLOG
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: গত ৩০ সেপ্টেম্বর তেল আভিভগামী একটি ফ্লাইটে (Flydubai flight incident) ওমানি নাগরিক তথা কো-পাইলট হামাম আল-হাম্মামির নৃশংস হামলার শিকার হন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর (Smit Machchhar)। এই আকস্মিক হামলায় তাঁর মাথা, গলা ও দুই হাতে গুরুতর জখম হয়। বিমানের ককপিটের ফ্লোরে যখন রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি শুয়েছিলেন, তখন ফার্স্ট রেসপন্ডার হিসেবে ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন এক ডেন্টিস্ট। দীর্ঘ ৪৫ মিনিট ধরে তিনি আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান ভারতীয় এই ক্যাপ্টেনের প্রাণ বাঁচানোর জন্য।

ইজরায়েলে বসবাসকারী জর্জিয়ান ডেন্টিস্ট ড. শুটা মুসায়েভ ছিলেন ওই ফ্লাইটের একমাত্র চিকিৎসক। যাত্রীদের চিৎকার শুনে তিনি সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যান এবং আক্রমণকারীকে বাগে আনতে অন্যদের সাহায্য করেন। এরপর তাঁর সম্পূর্ণ মনোযোগ নিবদ্ধ হয় মারাত্মকভাবে জখম ও রক্তক্ষরণ হতে থাকা ক্যাপ্টেন মচ্ছরের ওপর। টি-শার্ট ও বরফের প্যাক ব্যবহার করে তিনি রক্তপাত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান, যখন ক্যাপ্টেনের নাড়ির গতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল। পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দ্বারা ‘নায়ক’ হিসেবে প্রশংসিত হওয়া ক্যাপ্টেন এখন স্থিতিশীল রয়েছেন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।

তবে মাঝআকাশে সেই সংকটময় মুহূর্তে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। হামলার জেরে গুরুতর আহত হওয়ার পরও ক্যাপ্টেন বুঝতে পেরেছিলেন বিমানটি নীচের দিকে নামছে। আহত অবস্থাতেই তিনি ককপিটের দরজা খোলার একটি মরিয়া চেষ্টা চালান। সেই সময় অন্য এক যাত্রী ইয়ানিভ হায়ুন আক্রমণকারীকে টেনে দূরে সরিয়ে নেন এবং তৃতীয় একজন পাইলট দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিমানটিকে নিয়ন্ত্রণে এনে সোজা করেন। এরপর ড. মুসায়েভ পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন মচ্ছরের চিকিৎসায়। তেল আভিভের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হোলন থেকে এক সাক্ষাৎকারে ডেন্টিস্ট জানান, স্মিতের মাথা ও বাঁ হাত থেকে প্রবল বেগে রক্তপাত হচ্ছিল।

রক্ত বন্ধ না হওয়ায় তিনি কেবিন ক্রুদের কাছে বরফ চান। গভীর কাটাছেঁড়ার জন্য অনেক বরফের প্যাকের প্রয়োজন হয়েছিল এবং তিনি টি-শার্ট ও বরফ দিয়ে হালকাভাবে চাপ প্রয়োগ করে টানা ৪৫ মিনিট ধরে রক্তপাত থামিয়ে রাখার চেষ্টা চালান। ক্যাপ্টেনকে অবচেতন হতে না দেওয়ার গুরুত্ব বুঝে তিনি তাঁর পরিবার ও সন্তানদের নাম ধরে নানা কথা জিজ্ঞেস করতে থাকেন এবং দ্রুত অবতরণের আশ্বাস দিয়ে সাহস জোগান। নিজের নাম, বয়স, দুবাই নিবাসী ও ভারতীয় পরিচয়ের কথা জানানোর পর মচ্ছর আকুতি জানিয়ে বলেছিলেন, ‘হেল্প মি, প্লিজ। হেল্প মি, প্লিজ। আই ডোন্ট ওয়ান্ট টু ডাই হিয়ার।’

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলে নাড়ির গতি কমে যাওয়ায় ডেন্টিস্ট তাঁর ঠোঁটের নীল বর্ণ দেখে ক্রুদের দ্রুত বিমান অবতরণ করাতে বলেন। ক্রুরা ব্যথানাশক ওষুধ দিতে চাইলেও পুনরায় রক্তপাতের আশঙ্কায় ড. মুসায়েভ তা দেবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেন। পরিবর্তে তিনি অল্প অল্প জল খাইয়ে এবং শারীরিক সূচকগুলো পর্যবেক্ষণ করে পরিস্থিতি সামলান। বিমানটি সৌদি আরবের মাটিতে অবতরণ করার পর তিনি ক্যাপ্টেনকে চিকিৎসকদের হাতে তুলে দেন। এই ঘটনার পর তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর কিছুদিন পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস থাকলেও, ডেন্টিস্টের কাছে সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় ছিল যে— যাঁকে বাঁচানোর জন্য তিনি লড়েছিলেন, সেই মানুষটিই আগে তাঁর পরিবার সহ সমস্ত যাত্রীদের জীবন বাঁচিয়েছিলেন। গত মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে যে ক্যাপ্টেন মচ্ছর সুস্থতার পথে অবিচলভাবে এগিয়ে চলেছেন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *