উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ রাজ্য রাজনীতির অন্দরে হঠাৎ করেই নতুন করে উত্তাপ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সঙ্গী ও প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে সোমবার দুপুরে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Firhad Hakim Meets Ritabrata) ঘরে দেখা যাওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের অন্দরে ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের বিধায়ক সন্দীপন সাহাও। এই বৈঠক ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।
ফিরহাদ হাকিম বরাবরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ছাব্বিশের নির্বাচনে দলের ভরাডুবির মাঝেও তিনি নিজের জনসমর্থন ধরে রেখেছেন। তবে গত শুক্রবার তিনি মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেন। ইস্তফাপত্রে তিনি আক্ষেপ করে বলেছিলেন, তাঁর অবস্থা এখন “ঢাল নেই, তলোয়ার নেই, নিধিরাম সর্দারের” মতো। সেই বৈঠকের দিন বিকালেই তিনি নেত্রীর কালীঘাটের বাসভবনে বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন।
দিল্লিতে সংসদীয় দল ভাঙনের পথে—এমন পরিস্থিতির মাঝেই ফিরহাদ হাকিমের এই সাক্ষাৎ কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়ার ইঙ্গিত? এই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে রাজনৈতিক মহলে। তবে এদিনের এই বৈঠক নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বা ফিরহাদ হাকিম—কারও পক্ষ থেকেই কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি তাৎপর্যপূর্ণ কারণ, ফিরহাদ হাকিমকে এতদিন দলের অত্যন্ত অনুগত এবং দক্ষ সংগঠক হিসেবেই দেখা গেছে। তৃণমূল সুপ্রিমোর আহ্বানে তিনি বারবার কালীঘাটের বাসভবনে বৈঠকে গিয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তাঁর এই গতিবিধি কি দলের অভ্যন্তরীণ কোনো বড় পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে? সেটাই এখন দেখার বিষয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সাক্ষাতের পরবর্তী পদক্ষেপই বলে দেবে রাজ্যের রাজনীতির মোড় কোন দিকে ঘুরছে।
