সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, মায়ামি: ফিফা বিশ্বকাপ কি শুধুই নব্বই মিনিটের খেলা (FIFA World Cup 2026)? একেবারেই নয়। ফুটবল এখন আক্ষরিক অর্থেই এক কার্নিভাল। সাধারণ আমেরিকানদের মধ্যে ফুটবল-জ্বর ততটা না থাকলেও, হলিউডের তারকামহলে উন্মাদনার কোনও খামতি নেই। গ্যালারিতে তাঁদের উজ্জ্বল উপস্থিতি টুর্নামেন্টের আকর্ষণকে এক অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিচ্ছে।
এই গ্ল্যামারের চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ঘটতে চলেছে ১৯ জুলাই, নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের ফাইনালে। ম্যাডোনা, শাকিরা এবং বিটিএস-এর পারফরমেন্স একপ্রকার চূড়ান্ত। কিন্তু আসল চমক হিসেবে ফিফা আনতে চাইছে পপ-আইকন জাস্টিন বিবারকে। কোচেলা ফেস্টিভাল মাতানোর পর বিবার যদি ফাইনালে আসেন, তবে তা টুর্নামেন্ট ঘিরে ওঠা যাবতীয় সমালোচনা ভুলিয়ে দিতে বাধ্য। তবে, এই তারকা সমাবেশের নেপথ্যে রয়েছে এক মহৎ উদ্দেশ্য। হাফ টাইমের এই অনুষ্ঠানের আয়ের প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার তুলে দেওয়া হবে ‘গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড’-এর হাতে, যা দিয়ে বিশ্বজুড়ে পিছিয়ে পড়া শিশুদের পড়াশোনা ও ফুটবল কোচিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
মাঠের বাইরের এই জৌলুস গ্যালারিতেও সমানভাবে ঠিকরে পড়ছে। স্পেনের ৩-০ গোলের জয়কে রীতিমতো ‘ডেট নাইট’ হিসেবে উদযাপন করেছেন পেনেলোপ ক্রুজ ও জেভিয়ার বারদেম। চোখে রোদচশমা আর মাথায় বেসবল টুপি দিয়ে নিজেদের আড়াল করার চেষ্টা করলেও, স্প্যানিশ গায়িকা রোসালিয়ার সঙ্গে তাঁদের উচ্ছ্বাস নজর এড়ায়নি ক্যামেরার। অন্যদিকে, ইংল্যান্ড ও আমেরিকার ম্যাচে ডেভিড এবং ভিক্টোরিয়া বেকহ্যামের সঙ্গে ভিআইপি বক্সে আড্ডা দিতে দেখা গেছে হলিউড সুপারস্টার টম ক্রুজকে। বেভারলি হিলসের প্রতিবেশী বেকহ্যামদের সঙ্গে ক্রুজের পারিবারিক রসায়ন গ্যালারিতেও অটুট।
আমেরিকা বনাম তুরস্কের ম্যাচে হাজির ছিলেন ব্র্যাড পিট ও প্যারিস হিলটন। ফিফার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর সালমা হায়েক শুধু মেক্সিকোর উদ্বোধনেই নন, নিয়মিত গ্যালারিতে হাজির থাকছেন। দুই ছেলেকে নিয়ে নিজের দেশ কলম্বিয়ার পাশাপাশি আর্জেন্টিনার ম্যাচেও গলা ফাটাচ্ছেন শাকিরা।
মজার ব্যাপার হল, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ডালাসের স্টেডিয়ামেই এই তারকাদের সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে। নিউ ইয়র্কের বদলে আধুনিক পরিকাঠামোয় ঘেরা এই দুই মাঠই যে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর পাশাপাশি সেলিব্রিটিদেরও প্রথম পছন্দ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না!

