উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ভারত-বিরোধী মনোভাব এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র গর্জে উঠলেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ ও বর্ষীয়ান মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান (Fazlur Rahman)। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস (Historical past) বিকৃতির অপচেষ্টা এবং জামাতে ইসলামির অতীত ভূমিকা নিয়ে তাঁর এই কঠোর অবস্থান বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ফজলুর রহমান সরাসরি জামাতে ইসলামিকে ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে আক্রমণ করেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, “কোনো মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের সদস্য কোনোভাবেই জামাত করতে পারে না। যদি কেউ তা করে, তবে সেটি ডাবল অপরাধ।” জামাতে ইসলামির প্রধান শফিকুর রহমানের বাবার মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার দাবিকেও কার্যত চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধে ভারতের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সারা পৃথিবী জড়িত ছিল। ভারত ৩ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে আমাদের সহযোগিতা করার জন্য অংশগ্রহণ করেছিল এবং তার হাজার হাজার সৈন্য এই মাটিতে রক্ত দিয়ে গেছে। ভারত আমাদের দেশের স্বাধীনতার জন্য বিশ্বযুদ্ধের ঝুঁকি নিয়েছিল। আমাদের জন্য সোভিয়েত ইউনিয়ন নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো দিয়েছিল, তা না হলে আমাদের দেশ স্বাধীন হতো কিনা সন্দেহ ছিল।”
২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণ-আন্দোলনের সঙ্গে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের তুলনা টেনে আনাকে ফজলুর রহমান ‘প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে কুয়োর তুলনা’ বলে অভিহিত করেছেন। ৫ আগস্টের পরবর্তী ঘটনাবলী নিয়েও সরব হন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পরে এত থানা লুট হয়েছে, পুলিশকে হত্যা করা হয়েছে, তখন তো পুলিশ যুদ্ধ করে নাই, তারা তো নিরপরাধ। এত অস্ত্র গেল কোথায়? ৫ আগস্টের (২০২৪ সালের) পরে পুলিশ হত্যা হয়ে থাকে, থানা লুট হয়ে থাকে, সেটার জন্য তদন্ত হওয়া উচিত, দোষীদের বিচার হওয়া উচিত।”
নিজের জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষা করার অঙ্গীকার করে ফজলুর রহমান হুঙ্কার দিয়ে বলেন, যতদিন এই বাংলায় ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার’ বেঁচে থাকবে, ততদিন মুক্তিযোদ্ধারাই জিতবে, রাজাকাররা কখনও জয়লাভ করতে পারবে না। বিএনপি সাংসদের এই সাহসী ও স্পষ্টবাদী বক্তব্য বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে ভিন্ন আবহ তৈরি করেছে, যা সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।

