রায়গঞ্জ: নিজেকে রায়গঞ্জ গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (Raiganj Medical School) নামী চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে হরিয়ানার এক তরুণী ডাক্তারকে প্রেমের ফাঁদে ফেলার অভিযোগ উঠল উত্তর দিনাজপুরের এক যুবকের বিরুদ্ধে (Faux Physician Rip-off)। কেবল প্রেমের অভিনয়ই নয়, অন্তরঙ্গ ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ধাপে ধাপে ওই তরুণী চিকিৎসকের কাছ থেকে ১২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো ওই ভুয়ো ডাক্তারকে। সোমবার গভীর রাতে রায়গঞ্জ থানার পুলিশের সহযোগিতায় হরিয়ানার কৈথাল (Kaithal) সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ বীরঘই গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামে হানা দিয়ে মূল অভিযুক্তকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। এই আন্তর্জাতিক মানের সাইবার জালিয়াতির ঘটনায় রায়গঞ্জ জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের নাম জয়দেব বর্মন (৩০)। সে রায়গঞ্জ থানার ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। হরিয়ানা সাইবার পুলিশ জানিয়েছে, চলতি বছরের গত ৬ জানুয়ারি ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম সহ একাধিক সামাজিক মাধ্যমে হরিয়ানার কৈথালের বছর পঁচিশের এক তরুণী চিকিৎসকের সঙ্গে পরিচয় হয় উচ্চশিক্ষিত জয়দেবের। নিজেকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজের ডাক্তার দাবি করে অত্যন্ত সুকৌশলে ওই তরুণীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে সে।
এরপর শুরু হয় তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান। সম্পর্ক কিছুটা গভীর হতেই নিজের আসল রূপ দেখায় জয়দেব। ওই ছবিগুলি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ও ব্ল্যাকমেল করে দফায় দফায় ‘ফোন পে’ (PhonePe) অ্যাপের মাধ্যমে তরুণী চিকিৎসকের কাছ থেকে মোট ১২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় সে। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে গত ১০ মে হরিয়ানার কৈথাল সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসক।
অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তদন্তে নামে হরিয়ানা পুলিশ। জয়দেবের একাধিক মোবাইল নম্বর ও ব্যাংকের নথি ট্র্যাক করে জানা যায়, তার আসল আস্তানা হরিয়ানায় নয়, বরং উত্তরবঙ্গের রায়গঞ্জে। এরপরই সোমবার রাতে হরিয়ানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম রায়গঞ্জে পৌঁছায় এবং স্থানীয় থানার পুলিশের সাহায্য নিয়ে ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামে মেষপালকের মতো ওত পেতে বসে জয়দেবকে গ্রেফতার করে। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) আইনের ৩১৮(৪)/৬১ সহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ধৃতকে রায়গঞ্জ মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট (CJM) আদালতে তোলা হয়। রায়গঞ্জ সিজেএম কোর্টের সরকারি আইনজীবী নীলাদ্রি সরকার বলেন, “১২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা প্রতারণার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে হরিয়ানা পুলিশ। বিচারক ধৃতকে ৪ দিনের ট্রানজিট রিমান্ডের (Transit Remand) নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে হরিয়ানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।” হরিয়ানা সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ আধিকারিক বিনোদ কুমার জানিয়েছেন, “জিজ্ঞাসাবাদে স্পষ্ট হয়েছে ধৃত তরুণ কোনও ডাক্তার নয়, স্রেফ পরিচয় ভাঁড়িয়ে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। সে অত্যন্ত উচ্চশিক্ষিত এবং এর আগেও আরও বেশ কয়েকজন মেয়ের সঙ্গে এই ধরনের জালিয়াতি করেছে সে। চক্রের শিকড় খুঁজতে তদন্ত জারি রয়েছে।”
