উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্কঃ ভোটের আগে ‘চিকিৎসা করে দেব’ বনাম ‘ঝুঁকেগা নেহি’ ডায়লগে সরগরম হয়ে উঠেছিল গোটা রাজ্য। কিন্তু দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন ফলতায় মুখোমুখি সাক্ষাৎ হলো না পুলিশ পর্যবেক্ষক আইপিএস অজয়পাল শর্মা (যাঁকে ‘সিংহম’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে) এবং তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের (যিনি নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে দাবি করেছেন) (Falta Election Singham vs Pushpa)। দিনভর কড়া নিরাপত্তায় টহল দিলেন ‘সিংহম’, আর অন্যদিকে প্রায় গোটা দিনই দলীয় কার্যালয়ের চার দেওয়ালে বন্দি থেকে ভোট পরিচালনা করলেন ‘পুষ্পা’। তবে মুখোমুখি সাক্ষাৎ না হলেও, ভোটের দিন ফলতা রইল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেই।
ভোটের আগের দিনগুলোর মতো প্রকাশ্যে কোনো ‘হম্বিতম্বি’ বা হুঁশিয়ারি না দিলেও, বুধবার সকাল থেকেই ময়দানে ছিলেন উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস অজয়পাল শর্মা। পৈলান থেকে সাঁজোয়া গাড়ি ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে তিনি শিরাকল হয়ে সোজা পৌঁছান ডায়মন্ড হারবারে। সিআরপিএফ-এর ডিজির সঙ্গে আধঘণ্টার বৈঠক সেরে সোজা ছোটেন জাহাঙ্গিরের গড়— ফলতায়।
সেখানে বিবেকানন্দ আদর্শ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় বাহিনীর ক্যাম্পে পৌঁছালে তাঁর কাছে রঞ্জিত মণ্ডল ও সুন্দরী মণ্ডল নামে দুই ভোটার অভিযোগ করেন যে, ভোট দিয়ে ফেরার পথে তাঁদের বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। খবর পাওয়ামাত্রই বাহিনী নিয়ে বেরিয়ে পড়েন ‘সিংহম’ এবং ওই দু’জনকে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেন।
অন্যদিকে, ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান সকাল ৬টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত নিজের দলীয় কার্যালয়ে বসেই ভোট পরিচালনা করেন। পড়ন্ত বিকেলে শ্রীরামপুর পশ্চিম দুর্গাপুর বিদ্যালয়ে ভোট দিতে বের হন তিনি। ভোট দিয়েই কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন জাহাঙ্গির। সাধারণ মানুষের ওপর লাঠিচার্জের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “৪ মে-র পর কী ভাবে ওকে (অজয়পাল শর্মা) উত্তরপ্রদেশে পাঠাতে হয়, তা দেখাব।”
এত নজরদারির মধ্যেও ফলতায় পুরোপুরি শান্তিতে ভোট মেটেনি। ফলতার একটি বুথে ইভিএমে বিজেপির প্রতীকের পাশে সাদা টেপ লাগিয়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে। যদিও তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির এই অভিযোগকে বিজেপির ‘সাজানো’ বলে দাবি করেছেন। তবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, যেখানে ইভিএমে টেপ দেখা গিয়েছে, সেখানে পুনর্নির্বাচন হবে।
