ভাস্কর শর্মা, ফালাকাটা: ফালাকাটার নাগরিকদের বড়দিনের উপহার দিল পুরসভা। রাস্তা, কালভার্ট, ড্রেন তৈরি সহ নানা উন্নয়নমূলক কাজের সূচনা হল বুধবার। পুরসভা হওয়ার সাড়ে তিন বছরের মধ্যে এদিন সবচেয়ে বেশি টাকার কাজের সূচনা হয়। ১৮টি ওয়ার্ডে প্রায় সাড়ে ১০ কোটি টাকায় বিভিন্ন কাজ করা হবে। সেইসঙ্গে আগামী ৩১ ডিসেম্বর রাতে ফালাকাটা শহরবাসীকে গ্রিন সিটি মিশনের ঝাঁ চকচকে আলো উপহার দেওয়া হবে।
ফালাকাটা পুরসভার চেয়ারম্যান অভিজিৎ রায় বলেন, ‘এদিন পুরসভার পক্ষ থেকে ৮ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার কাজের সূচনা করা হল। এছাড়া উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের ১ কোটি ৯০ লক্ষ টাকায় আরও ৩টি বড় রাস্তার কাজের সূচনা হয়। রাস্তা, কালভার্ট, ড্রেন সহ প্রায় ২১৩টি কাজ শুরু হল। আগামী ২ মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে।’
ফালাকাটা পুরসভার (Falakata Municipality) দলনেতা কাউন্সিলার রতন সরকার বলেন, ‘আমরা যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে পুরসভায় বোর্ড গঠন করেছিলাম তার বেশিরভাগ কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। এদিন রেকর্ড সংখ্যক টাকার কাজের সূচনা করা হল। এরপরেও যদি বিরোধীরা উন্নয়ন না দেখে, তাহলে তাদের বলব ওয়ার্ডগুলিতে ঘুরতে।’
ফালাকাটা পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, পেভার্স ব্লকের রাস্তা হবে ২৭টি, সিসি রাস্তা হবে ১০৪টি। এছাড়া, ড্রেন হবে ৪৪টি, বিটুমিনাস রোড ১টি এবং সোলার লাইট, পথবাতি সহ ১৭টি নানা বৈদ্যুতিক কাজ করা হবে। পাশাপাশি কোথাও গার্ডওয়াল, কোথাও কালভার্ট আবার কোথাও বসার চেয়ার, শেডঘর সহ এমন ১৭টি কাজ করা হবে। বুধবার এইসব কাজের ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়ার পাশাপাশি বেশকিছু কাজের সূচনাও করা হয়। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের টাকায় পুরসভার ৮, ৯ এবং ১১ নম্বর ওয়ার্ডে পেভার্স ব্লকের রাস্তার কাজ হবে।
পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তথা পুরসভার ভাইস চেয়ারপার্সন রুমা রায় সরকার বলেন, ‘আমার ওয়ার্ডে দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি রাস্তা সংস্কারের। এদিন পুরসভার পক্ষ থেকে ওই রাস্তা একেবারে নতুন করে তৈরি করে দিতে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়। ভালো লাগছে, মানুষের প্রত্যাশামতো কাজ করতে পারছি।’
কাজ শুরু হওয়ায় খুশি শহরবাসী। শহরের বাসিন্দা দিলীপ বিশ্বাসের কথায়, ‘একসঙ্গে এত রাস্তা, ড্রেন, কালভার্টের কাজের সূচনা সত্যিই এটা বড়দিনের উপহার। তবে শহরের ছোট ছোট গলির রাস্তাগুলির দিকেও নজর দিতে হবে পুরসভার। আমাদের বিশ্বাস, পুরসভা নাগরিক সমস্যা সমাধান করতে পারবে।’
