Deshbandhu Para Shris Ch. Major College | পড়ুয়া মাত্র ১৭, ধুঁকছে শ্রীশ চন্দ্র প্রাথমিক স্কুল

Deshbandhu Para Shris Ch. Major College | পড়ুয়া মাত্র ১৭, ধুঁকছে শ্রীশ চন্দ্র প্রাথমিক স্কুল

শিক্ষা
Spread the love


ভাস্কর শর্মা, ফালাকাটা: প্রতিষ্ঠার পর কেটে গিয়েছে ৫৩ বছর। আর অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে আজ পড়ুয়ার অভাবে ধুঁকছে সেই স্কুল। কথা হচ্ছে ফালাকাটার (Falakata) দেশবন্ধুপাড়া শ্রীশ চন্দ্র প্রাথমিক স্কুল (Deshbandhu Para Shris Ch. Major College) নিয়ে। সেখানে পড়ুয়া সংখ্যা মাত্র ১৭। অথচ শিক্ষক রয়েছেন ৫ জন। এভাবে চললে স্কুল বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাসিন্দাদের একাংশ। এবিষয়ে কর্তৃপক্ষ বা শিক্ষা দপ্তর কেন কোনও পদক্ষেপ করছে না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। যদিও ফালাকাটা সদর সার্কেলের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক (এসআই) রাজা ভৌমিক বলছেন, ‘স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়াতে বেশ কিছু পদক্ষেপ করা হয়েছে। দ্রুত এলাকার কাউন্সিলার সহ অন্যদের নিয়ে বৈঠক করা হবে।’

ফালাকাটা পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছে শ্রীশ চন্দ্র প্রাথমিক স্কুল। এলাকায় বুনিয়াদি শিক্ষার প্রসারে ১৯৭২ সালে তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। থানা রোড ধরে মিল রোডের দিকে গেলে ১০০ মিটারের মধ্যেই স্কুলটি চোখে পড়বে। বর্তমানে মাত্র ১৭ জন পড়ুয়া আছে। এর মধ্যে প্রাকপ্রাথমিকে ৩, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২ জন করে এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে ৫ জন করে পড়ুয়া রয়েছে। সকলে আবার প্রতিদিন স্কুলে আসে না। রয়েছেন প্রধান শিক্ষিকা সহ ৪ জন স্থায়ী শিক্ষক। এছাড়া ১ জন পার্শ্বশিক্ষক আছেন। মিড-ডে মিল দেওয়াও হয়। মেলে অন্য সরকারি সুবিধাও। কিন্তু তারপরও কেন এই স্কুলে বাচ্চাদের ভর্তি করাতে অভিভাবকদের অনীহা?

এলাকায় বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর করতেই উঠে এল একাধিক কারণ। অভিভাবকদের একাংশের অভিযোগ, সীমানা প্রাচীর নেই। সেকারণে প্রায়ই সন্ধ্যা নামতে স্কুল চত্বরে সমাজবিরোধীরা আড্ডা জমায়। চলে মদ্যপান। চত্বরে পড়ে থাকে মদের খালি বোতল সহ নেশার সামগ্রী। অভিযোগ, পঠনপাঠনও ঠিকঠাক হয় না।

স্থানীয় বাসিন্দা প্রণয় সূত্রধর বলছেন, ‘স্কুলটির এই দশার জন্য শিক্ষা দপ্তর এবং এলাকার বেশ কিছু মানুষ দায়ী। এতদিন পর্যাপ্ত স্কুলে শিক্ষক ছিল না। এখন শিক্ষক থাকলেও নানা কারণে ঠিকঠাক পঠনপাঠন হয় না। সেকারণে আমরা বাচ্চাদের অন্য স্কুলে ভর্তি করিয়েছি।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক বাসিন্দা বললেন, ‘সারাবছর নানা অনুষ্ঠানের জন্য স্কুল মাঠ ব্যবহার করা হয়। নেশার আসর তো আছেই। এসব দেখে কেউ কি চাইবে বাচ্চাকে এমন স্কুলে ভর্তি করতে?’

এদিকে, প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক উন্নয়নে কয়েক বছর আগে উদ্যোগী হয়েছিল শিক্ষা দপ্তর। জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ (ডিপিএসসি)-এ স্কুলটিকে ইংরেজিমাধ্যমে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, কয়েক বছর কেটে গেলেও সেনিয়ে কারও কোনও উচ্চবাচ্য নেই। যদিও এসআই বলছেন, ‘ইংরেজিমাধ্যমে উন্নীত করার জন্য আরও কয়েকটি স্কুলের সঙ্গে শ্রীশ চন্দ্র প্রাথমিকের নামও ডিপিএসসিতে প্রস্তাব করা হয়েছে।’

প্রধান শিক্ষিকা শিবানী দত্ত সেনের বক্তব্য, ‘আমি মাত্র ১ বছর হল দায়িত্ব নিয়েছি। সীমানা প্রাচীর না থাকায় রাতে স্কুল চত্বরে নেশার আসর বসে। যা দেখে অভিভাবকরা বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পান। আমরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি। সামনের শিক্ষাবর্ষে পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়বে বলেই আমার বিশ্বাস।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *