Energy Division Rip-off | দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেই, বিদ্যুৎ দপ্তরে ফের সক্রিয় হচ্ছে সিন্ডিকেট

Energy Division Rip-off | দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেই, বিদ্যুৎ দপ্তরে ফের সক্রিয় হচ্ছে সিন্ডিকেট

শিক্ষা
Spread the love


শুভঙ্কর চক্রবর্তী

কেন্দ্রীয় সরকারের তদন্ত রিপোর্টে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি (Corruption) ধরা পড়লেও এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপই হয়নি। কারণ, দুর্নীতি ইস্যুতে বিদ্যুৎ দপ্তরে (Energy Division Rip-off) ঠগ বাছতে গাঁ উজাড় হওয়ার দশা। দপ্তরে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে দুর্নীতির নানা কেচ্ছা। নীচুতলা থেকে শীর্ষ স্তর পর্যন্ত বহু আধিকারিক প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। ফলে বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধার লোক মিলছে না। একজনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করলে তিনি অন্যজনের দুর্নীতি নিয়ে হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিতে পারেন সেই আশঙ্কাতেই রয়েছেন বহু আধিকারিক। আবার সিন্ডিকেটের (Syndicate) একাংশ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্তরের বিজেপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। ‘কিছুদিনের মধ্যেই সব ম্যানেজ হয়ে যাবে’- দপ্তরের ভেতরে এই বার্তা পৌঁছে দিতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে তারা। তবে দুর্নীতি ধরা পড়ার পরও পদক্ষেপ না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন দপ্তরের স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কর্মী, আধিকারিকরা।

সূত্রের খবর, দুর্নীতি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে বিদ্যুৎ দপ্তরের ভেতরে। দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ চাইছেন শীর্ষকর্তাদের কয়েকজন। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসাবে তালিকা তৈরি করে দুর্নীতিতে জড়িতদের বদলির প্রস্তাবও জমা হয়েছে চেয়ারম্যানের কাছে। তবে অজানা কারণে সেই প্রস্তাব কার্যকর হয়নি। দুর্নীতি নিয়ে যে বা যাঁরা মুখ খুলছেন তাঁদের নানাভাবে কোণঠাসা করে দেওয়া হচ্ছে। দপ্তরের লাগামহীন নানা দুর্নীতি নিয়ে সম্প্রতি নিজের ফেসবুকে ধারাবাহিকভাবে লিখেছিলেন দপ্তরের অ্যাডিশনাল জেনারেল ম্যানেজার (কর্পোরেট কমিউনিকেশন) শান্তনু সরস্বতী। তারপরই শান্তনুর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেন দপ্তরের চেয়ারম্যান ও এমডি শান্তনু বসু। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিও তৈরি করা হয়। সামাজিক মাধ্যমে লেখার ভিত্তিতে পদক্ষেপ হলেও কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্টের ভিত্তিতে কেন পদক্ষেপ হচ্ছে না তার কোনও উত্তর মেলেনি। চেয়ারম্যানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ ছিল। তদন্ত কমিটির সদস্যরাও ওই বিষয়ে কোনও কথা বলতে চাননি।

‘ভয় আউট, ভরসা ইন’- এই স্লোগান দিয়েই রাজ্যে ক্ষমতা দখল করেছে বিজেপি। পরিবর্তনের পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা বারবার বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী থেকে মন্ত্রীসভার অন্য সদস্যরা। তারপরও অরূপ বিশ্বাসের আমলে বিদ্যুৎ দপ্তরের পুকুরচুরি নিয়ে বহু অভিযোগ উঠলেও রাজ্য সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও তদন্ত তো শুরু হয়ইনি, উলটে আরডিএসএস প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা তদন্ত করে দুর্নীতির রিপোর্ট জমা দিলেও পদক্ষেপ হচ্ছে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অধীনেই রয়েছে বিদ্যুৎ দপ্তর। ফলে প্রশ্ন উঠছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। চেষ্টা করেও এবিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী গার্গী দাস ঘোষ যে জেলার বাসিন্দা সেই মুর্শিদাবাদই বিদ্যুৎ দুর্নীতির অন্যতম ঘাঁটি। এদিন একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন তোলেননি গার্গী।

দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে আরডিএসএস প্রকল্পের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকা রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির ডিরেক্টর (প্রোজেক্ট) পথিক নায়েকের ভূমিকায়। যদিও বিষয়টি নিয়ে কোনও কথাই বলতে রাজি হননি তিনি। ফোন করা হলে সমস্ত অভিযোগ শোনেন পথিক। তারপর বলেন, ‘এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে কথা বলায় নিষেধাজ্ঞা আছে। কোম্পানির পক্ষে যিনি কথা বলার দায়িত্বে আছেন তিনিই যা বলার বলবেন।’ তবে কে বলার দায়িত্বে আছেন তা অবশ্য জানাতে পারেননি তিনি। চিফ ইঞ্জিনিয়ার (প্রোজেক্ট) মানিকচন্দ্র পালের বক্তব্য, ‘সবকিছু সংবাদমাধ্যমে বলা যাবে না। তবে পদক্ষেপ যে হচ্ছে না, সেকথা বলা ঠিক নয়। নিশ্চয়ই দপ্তরের গাইডলাইন এবং আইন মেনে পদক্ষেপ হবে।’

এসবের মধ্যেই সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছেন দপ্তরের কর্মী, আধিকারিকরা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না হওয়ার সুযোগে বিদ্যুৎ ভবনে ফের সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন সিন্ডিকেটের কারবারিরা। সূত্রের খবর, সম্প্রতি বাবুসোনা সিন্ডিকেটের অন্যতম এক মাথাকে বিদ্যুৎ ভবনে দপ্তরের এক শীর্ষস্থানীয় আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গিয়েছে। অন্যদিকে, কিছুদিন আগেই কার্সিয়াংয়ে গোপন বৈঠক করেছেন বাবুসোনা সিন্ডিকেটের সদস্যরা। উত্তরবঙ্গ ছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের কয়েকজন বিদ্যুৎ আধিকারিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরিস্থিতি একটু থিতিয়ে গেলে ফের তাঁরা সক্রিয় হওয়ার পরিকল্পনা শুরু করেছেন। সব মিলিয়ে যে সর্ষে দিয়ে ভূত তাড়ানোর কথা সেই সর্ষেতেই ভূত থাকায় দপ্তরের প্রতি মুহূর্তের সব খবর সহজেই পৌঁছে যাচ্ছে সিন্ডিকেটের কাছে। এখনই কড়া পদক্ষেপ না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্নীতির আশঙ্কা করছেন অনেকেই।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *