বাগডোগরা: ব্যাংডুবির অত্যন্ত সংরক্ষিত ১৬ এফএডি (16 FAD) সেনা ছাউনি এলাকায় জল খেতে গিয়ে এক চরম বিপত্তির মুখে পড়ল হাতির দল। বৃহস্পতিবার বিকেলে সেনাক্যাম্পের ২১ নম্বর জলাধারে একটি পূর্ণবয়স্ক হাতি ও তার এক বছরের এক শাবক দুর্ঘটনাবশত পড়ে গিয়ে হাবুডুবু খেতে শুরু করে। এই দৃশ্য নজরে আসতেই তৎক্ষণাৎ জওয়ানদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। তবে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে সেনা বাহিনীর নিজস্ব দমকল ও বন দপ্তরের (Forest Division) বিশেষ দল যৌথভাবে উদ্ধার অভিযানে নামে। শেষ পর্যন্ত আর্থমুভার ও নাইলনের মজবুত জালের সুনিপুণ ব্যবহারে টানা ৪৫ মিনিটের টানটান প্রচেষ্টায় অক্ষত অবস্থায় হাতি (Elephant rescue) দুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ডাঙ্গায় ওঠার পরপরই তারা জঙ্গলে ওত পেতে থাকা নিজেদের দলের বাকি সদস্যদের সঙ্গে বনের গভীরে মিলিয়ে যায়।
কার্সিয়াং বন বিভাগের ডিএফও দেবেশ পান্ডে এই ঘটনা প্রসঙ্গে জানান যে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাগডোগরার জঙ্গলে আনুমানিক একশোর কাছাকাছি হাতির আনাগোনা রয়েছে। যার মধ্যে বেশকিছু হাতি ঘোরাফেরা করছিল সামরিক বিভাগের ১৬ এফএডি প্রাঙ্গণে। সেখানেই একটি জলাশয়ে পানীয় জল পান করতে নেমে দুর্ঘটনাবশত মাদি হাতি ও তার বাচ্চাটি পড়ে যায়। খবর পাওয়া মাত্রই বনকর্মী এবং সেনাক্যাম্পের দমকল কর্মীরা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে হাতি দু’টিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
সেনা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফায়ার ফাইটিং বা অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা হিসেবে সামরিক ছাউনির এই সুরক্ষিত বনাঞ্চলে ৫০ হাজার গ্যালন জল ধারণক্ষমতা সম্পন্ন প্রায় ৩৬টি জলাধার বিশেষ প্রক্রিয়ায় বানিয়ে রাখা হয়েছে। বর্তমান সময়ে ওই নির্দিষ্ট বনাঞ্চলে প্রায় ৪০টি হাতির একটি দল ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিকেলে যখন মা হাতি ও তার শাবক ২১ নম্বর জলাধারে পড়ে জীবন বাঁচাতে আর্তচিৎকার করছিল, সেই সময়ে জলাধারের একেবারে পাশেই অসহায় অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিল একটি প্রকাণ্ড দাঁতাল। কোনোভাবেই সাহায্য করতে না পেরে সেও তীব্র চিৎকার জুড়ছিল। এই খবর চটজলদি পৌঁছায় বাগডোগরা বন দপ্তরের কাছে। সঙ্গে সঙ্গে ১৬ এফএডি-র দমকল স্টেশন অফিসার দেবব্রত ঘোষ, দমকল কর্মী বিলাস দেবনাথ সহ বনকর্মীদের টিম উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে সফলভাবে বন্যপ্রাণ দু’টিকে নিরাপদে উদ্ধার করে।
The submit Elephant rescue | জলাধারে আটকে বিপত্তি, সেনা ও বনকর্মীদের ৪৫ মিনিটের যৌথ অপারেশনে উদ্ধার মা ও হস্তীশাবক appeared first on Uttarbanga Sambad.
