উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যে ভোট মিটলেও স্বস্তিতে নেই শাসকশিবির। ভোটের রেশ কাটতে না কাটতেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) (ED)-এর কড়া নজরে রাজ্যের দুই হেভিওয়েট মন্ত্রী সুজিত বসু ও রথীন ঘোষ (ED summons Bengal Ministers)। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আগামী ৬ মে তাঁদের ফের তলব করা হয়েছে। অর্থাৎ, ফল প্রকাশের ঠিক একদিন পরই সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে হবে তাঁদের।
শুক্রবার বিধাননগরের তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসু (Sujit Bose) সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দপ্তরে হাজিরা দেন। সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে ঢুকে তিনি বেরোন সন্ধে ৭টায়। টানা ন’ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সুজিত জানান, তিনি সাক্ষী হিসেবে এসেছিলেন এবং তদন্তে সহযোগিতা করবেন। তবে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘‘ব্যবসা করা অপরাধ নয়, চুরি করা অপরাধ।’’ ইডি সূত্রের খবর, আগামী ৬ মে তাঁকে ফের তলব করা হয়েছে এবং সঙ্গে আনতে বলা হয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি। তাঁর দেওয়া তথ্যগুলি যাচাই করতে চায় কেন্দ্রীয় সংস্থা।
শুধু সুজিত বসু নন, ওই একই দিনে অর্থাৎ ৬ মে তলব করা হয়েছে মন্ত্রী রথীন ঘোষকেও (Rathin Ghosh)। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এর আগে রথীনের বাড়িতে দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। ভোটের ব্যস্ততার কারণে তিনিও আগে হাজিরা দিতে পারেননি। সোমবার ভোটের ফল প্রকাশ, আর তার ঠিক ২৪ ঘণ্টা পার হতেই দুই মন্ত্রীকে সিজিও-তে তলব করায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
২০২৩ সাল থেকে পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্তের গতি বাড়িয়েছে ইডি। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালেও সুজিত বসুর বাড়ি ও দপ্তরে হানা দিয়েছিল তদন্তকারীরা। তল্লাশি চলেছে তাঁর ঘনিষ্ঠদের ঠিকানাতেও। সুজিতের পাশাপাশি তাঁর পুত্র সমুদ্র বসুকেও তলব করা হয়েছিল আগে। এখন দেখার, ফল প্রকাশের ঠিক পরদিন এই জোড়া তলব কোনো নতুন তথ্য সামনে আনে কি না, নাকি এটি নিছকই রুটিন জিজ্ঞাসাবাদের অংশ। তদন্তের জল কতদূর গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
