উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR 2026) ঘিরে কোনোভাবেই যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, তার জন্য নজিরবিহীন তৎপরতা দেখাল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। শনিবার প্রকাশিত হতে চলেছে ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যুক্তিবহির্ভূত তথ্যের তালিকা। তার পরবর্তী শুনানি ও সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন যেকোনো প্রকার অশান্তি বা প্রশাসনিক গাফিলতি রুখতে সরাসরি রাজ্যের মুখ্য সচিব, পুলিশ মহাপরিচালক (DG) এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে কড়া চিঠি পাঠাল কমিশন।
কড়া নজরদারির নির্দেশ ও সুপ্রিম কোর্টের স্মরণ
নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন চলাকালীন রাজ্যের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রশাসনের প্রাথমিক দায়িত্ব। এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court docket) নির্দেশের কথা মনে করিয়ে দিয়ে কমিশন হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যদি কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতির কারণে এই প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে, তবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বার্তা
বাংলার নাগরিকদের আশ্বস্ত করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন:
-
নিরাপত্তার নিশ্চয়তা: রাজ্যের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
-
আইন হাতে না নেওয়া: কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
-
জিরো টলারেন্স: অশান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কোনো রকম আপস করা হবে না।
জনসমক্ষে টাঙানো হবে ‘সমস্যাজনক’ ভোটার তালিকা
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আগামী ২৪ জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ এবং ‘আনম্যাপড’ (ঠিকানাহীন) ভোটারদের তালিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ভোটাররা যাতে সহজেই তাঁদের নামের স্থিতি জানতে পারেন, তার জন্য স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তালিকা যেখানে পাওয়া যাবে:
-
গ্রাম পঞ্চায়েত ভবন ও ব্লক অফিস।
-
তালুক স্তরের সরকারি দফতর।
-
শহরের প্রতিটি ওয়ার্ড অফিস।
মূলত ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা আনতে এবং কোনো যোগ্য ভোটার যাতে বাদ না পড়েন, সেই উদ্দেশ্যেই এই বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশনের এই কড়া অবস্থান রাজ্য প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়াল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
