উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR 2026) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ালো দক্ষিণ ২৪ পরগনায় (South 24 Parganas)। একদিকে শুনানির নোটিস পাওয়ার পর মানসিক চাপে কুলপিতে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, মগরাহাটে শুনানির কাজ চলাকালীন অতিরিক্ত পরিশ্রমে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক প্রশাসনিক আধিকারিক।
কুলপির করঞ্জলী এলাকার বাসিন্দা খালেদা বিবির চার ছেলের নামে সম্প্রতি এসআইআর-এর শুনানি নোটিস আসে। পরিবারের দাবি, কেন এই নোটিস এবং শুনানিতে কী কী নথি লাগবে তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন খালেদা বিবি। বৃহস্পতিবার সকালে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরিবারের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার আতঙ্ক এবং শুনানির মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।
এই ঘটনার খবর পেয়ে বৃদ্ধার বাড়িতে যান কুলপি ব্লক তৃণমূল সভাপতি সুপ্রিয় হালদার। তিনি সরাসরি নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে বিঁধে বলেন, “বারবার শুনানিতে ডেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন বিভ্রান্তি তৈরি করে বিজেপির দালালি করছে।” যদিও এই বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো পাল্টা প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি।
ভোটের কাজ চলাকালীন চরম চাপের আরও এক ছবি দেখা গেল মগরাহাটে। সেখানে শুনানির দায়িত্বে থাকা সহকারী নির্বাচনী আধিকারিক (AERO) জিন্নাত আমান খাতুন শুনানিকেন্দ্রেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘ সময় বিরতিহীন কাজ এবং মানসিক চাপের কারণেই তিনি জ্ঞান হারান বলে সহকর্মীদের ধারণা। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে বানেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতাল ও পরে ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
