উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: শনিবার সন্ধ্যায় আচমকাই ভূমিকম্পে (Earthquake) কেঁপে উঠল দিল্লি (Delhi) সহ উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা। জম্মু-কাশ্মীর এবং সংলগ্ন একাধিক রাজ্যেও জোরালো কম্পন অনুভূত হয়েছে। এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়। হুড়মুড় করে ঘরবাড়ি ও বহুতল আবাসন থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন বাসিন্দারা।
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৬.২। আর শক্তিশালী এই কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের (Afghanistan) হিন্দুকুশ অঞ্চল। ভারতীয় সময় ঠিক সন্ধ্যা ৭টা বেজে ৪ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২১৫ কিলোমিটার গভীরে ছিল এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল। উৎসস্থলটি অত্যন্ত গভীরে হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকলেও, কম্পনের তীব্রতা অনুভূত হয়েছে এক বিশাল ভৌগোলিক এলাকা জুড়ে।
আফগানিস্তানে উৎপত্তি হওয়া এই কম্পনের জেরে ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তান, চিন, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান এবং তুর্কমেনিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকাও কেঁপে ওঠে। তবে গভীরতা বেশি থাকার কারণে এখনও পর্যন্ত কোথাও কোনও বড়সড়ো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর মেলেনি। ভূবিজ্ঞানীদের মতে, ৬.২ মাত্রার ভূমিকম্প যথেষ্ট শক্তিশালী হলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূলত নির্ভর করে তার গভীরতা এবং স্থানীয় পরিকাঠামোর ওপর।
আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কালাফগান থেকে প্রায় ৮১ কিলোমিটার দূরে ছিল এই প্রধান ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র। তবে শুধু আফগানিস্তানই নয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সামগ্রিকভাবে ভারতীয় উপমহাদেশে একাধিকবার ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে ভারতের হিমাচল প্রদেশের চম্বা জেলায় ৩.২ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প হয়। ভূগর্ভের মাত্র ৫ কিলোমিটার গভীরে থাকা এই কম্পনের উৎসস্থল ছিল ধর্মশালা থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে। অন্যদিকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানও গত ২৪ ঘণ্টায় চারবার কেঁপে উঠেছে। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে সকাল ৮টা ৩৬ মিনিটে ৫.৫ মাত্রার একটি শক্তিশালী কম্পন আঘাত হানে, যার গভীরতা ছিল ৪০ কিলোমিটার।
হিমালয় সংলগ্ন এই গোটা ভূখণ্ডটি সিসমিক জোন বা ভূকম্পন প্রবণ হওয়ায় গত ২৪ ঘণ্টার এই ঘনঘন কম্পন আমজনতা ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে সবকটি অঞ্চল থেকেই আপাতত স্বস্তির খবর যে, কোথাও কোনও প্রাণহানি বা বড়সড়ো বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন আবহাওয়াবিদ ও সিসমোলজিস্টরা।

