Durgapur gang rape case | দুর্গাপুর গণধর্ষণকাণ্ডের মামলা স্থানান্তর এডিজে কোর্টে, জামিনের আবেদন নাকচ, ফের জেলে ৬ অভিযুক্ত

Durgapur gang rape case | দুর্গাপুর গণধর্ষণকাণ্ডের মামলা স্থানান্তর এডিজে কোর্টে, জামিনের আবেদন নাকচ, ফের জেলে ৬ অভিযুক্ত

শিক্ষা
Spread the love


দুর্গাপুরঃ বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ডাক্তারি পড়ুয়াকে গণধর্ষণের মামলায় ২০ দিনের মধ্যে অভিযুক্ত ৬ জনের বিরুদ্ধেই দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে দুর্গাপুরের নিউটাউনশিপ থানার পুলিশ। চার্জশিট জমা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গণধর্ষণে অভিযুক্ত ধৃত ৬ জনকে ফের তোলা হল দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে। এদিন শেখ সফিক ও শেখ রিয়াজউদ্দিনের তরফে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করে। স্পেশাল সরকারি আইনজীবী বা পিপি বিভাষ চট্টোপাধ্যায় জামিনের বিরোধিতা করেন। শেষ পর্যন্ত বিচারক দুজনের জামিন খারিজ করে দেন। এদিন ৬ জনেরই ১ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। পাশাপাশি বিচারক (এসিজেএম) মামলাটি এডিজে(ফাস্ট) কোর্টে স্থানান্তর করে দেন।

এদিন দুর্গাপুর মহকুমা আদালতের সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, গণধর্ষণের ঘটনার পেছনে কী কারণ রয়েছে সেইসব কিছু ও সিসিটিভি ফুটেজ পেনড্রাইভের মাধ্যমে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। চার্জশিটে সমস্ত তথ্য দেওয়া আছে। চার্জশিটের কপি সহ এইসব তথ্য ধৃতদের আইনজীবীকে দেওয়া হয়েছে। এরপরেই লিগাল এইড সার্ভিসেসের আইনজীবী পূজা কুর্মী বলেন, ‘তিন জন প্রথমে নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়েছিল। নির্যাতন চালানোর পর নির্যাতিতার মোবাইল ছিনতাই করে পালিয়েছিল। তারা চলে যাওয়ার পর শেখ রিয়াজউদ্দিন ও সফিক শেখ এসেছিল। তারা ২০০ টাকা ছিনতাই করেছিল এবং তাদের ফোন থেকে ছিনতাই যাওয়া নির্যাতিতার ফোনে ফোন করেছিল। যেহেতু তারা ফোন করেছিল সেজন্য তাদের বিরুদ্ধেও একাধিক ধারা দেওয়া হয়েছে। তাই তাদের জামিন দেওয়া হোক।’ সওয়াল-জবাব শেষে বিচারক বলেন, শনিবার সকাল সাড়ে দশটায় অতিরিক্ত দায়রা আদালতে পরবর্তী মামলার শুনানি হবে।

পরে সরকারি আইনজীবী বিভাষ চট্টোপাধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, ‘আমরা সমস্ত তথ্য চার্জশিটের মাধ্যমে বিচারকের কাছে পেশ করেছি। শুক্রবার কমিটমেন্ট হয়েছে। শনিবার সকালে এডিজে বা অতিরিক্ত দায়রা আদালতে পরবর্তী শুনানি হবে। এদিন এমনই নির্দেশ বিচারক দিয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই মামলার যাতে দ্রুত বিচার হয় সেই দিকে নজর রেখে আইও বা তদন্তকারী অফিসার আদালতে আবেদন করেছেন।’ অভিযুক্তদের তরফে তাদের আইনজীবিরা অভিযোগ করেন যে, ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট এখনও আসেনি। তাও চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে সরকারি আইনজীবী বলেন, ‘এমনটা হতেই পারে। এইসব পরীক্ষার রিপোর্ট আসতে দেরী হয়। রিপোর্ট পেলে আইও সাপ্লিমেন্টারী চার্জশিট জমা দেবেন।’

প্রসঙ্গতঃ, গণধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১০ অক্টোবর রাতে। পরের দিন ১১ অক্টোবর এই ঘটনার মামলা হয় ও পুলিশ তদন্ত শুরু করে। অর্থাৎ ২০ দিনের মধ্যে অভিযুক্ত ৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। নির্যাতিতার সহপাঠী ওয়াসেফ আলির বিরুদ্ধে শুধুমাত্র ধর্ষণের ধারা উল্লেখ রয়েছে এই চার্জশিটে। বাকি ৫ জনের মধ্যে অপু বাউরি, শেখ নাসিরউদ্দিন ও শেখ ফেরদৌসের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, তোলাবাজি ও ডাকাতির ধারা দেওয়া হয়েছে। শেখ রিয়াজউদ্দিন ও সফিক শেখের বিরুদ্ধে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ধারা রয়েছে। ইতিমধ্যেই নির্যাতিতা পুলিশের পাহারায় ওডিশার জলেশ্বরে নিজের বাড়ি ফিরে গেছেন। এখন দেখার, রাজ্যে শোরগোল ফেলে দেওয়া এই ঘটনার ট্রায়াল কতদিন শেষ হয় ও বিচারে দোষীরা সাজা পায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *