অমৃতা দে, দিনহাটা : মণ্ডপে ঢুকলে চোখ আটকে যাবে রং-তুলির কারুকাজে। কোথাও দেবদেবীর চিত্রপট, কোথাও পৌরাণিক কাহিনীর দৃশ্য। দর্শনার্থীরা ছবি তুলবেন, মণ্ডপের প্রশংসা করবেন। কিন্তু এই সৌন্দর্যের পিছনে যাঁদের দিনের পর দিন কেটে যায় রং আর তুলির সঙ্গে, তাঁদের কথা কতজনই বা মনে রাখেন! নিভৃতে কাজ করে চলা সেই শিল্পীদের হাতেই সাধারণ উপকরণ পায় অসাধারণ রূপ। দিনহাটা(Dinhata) শহরের স্টেশন রোড দুর্গাপুজো(Durga Puja) কমিটির ৬০তম বর্ষের আয়োজনেও সেই শিল্পসত্তারই প্রকাশ। এবারের থিম ‘চিত্রকলা’।
প্রায় দু’মাস ধরে মণ্ডপ সাজানোর কাজে ব্যস্ত চিত্রশিল্পী সুজয় সাহা(Artisan Sujoy Saha) ও তাঁর দুই সহযোগী সবুজ মজুমদার এবং নারায়ণ সাহা। তাঁদের তুলির টানে ফুটে উঠছে দেবদেবী ও পৌরাণিক কাহিনীর নানা দৃশ্য। মণ্ডপের প্রবেশপথ এমনভাবে সাজানো হচ্ছে, যাতে ভিতরে পা রাখলেই মনে হয়, যেন কোনও মাটির বাড়িতে ঢুকেছেন দর্শনার্থীরা। দেওয়ালে থাকবে ঐতিহ্যবাহী আলপনা ও বিভিন্ন দেবদেবীর চিত্রপট। মণ্ডপের সামনে বিশেষ আকর্ষণ প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার হাতে আঁকা দশভুজা প্রতিমা।
মণ্ডপের ভিতরে দেখা মিলবে লক্ষ্মী সহ বিভিন্ন দেবদেবীর ছবি। তুলির টানে ফুটে উঠছে শ্রীকৃষ্ণের লীলার নানা মুহূর্তও। প্রতিটি ছবিতে পৌরাণিক কাহিনী ও চিত্রকলার সৌন্দর্য তুলে ধরতে চান শিল্পীরা। শুধু ছবি আঁকাই নয়, মণ্ডপসজ্জাতেও রয়েছে তাঁদের সৃজনশীলতার ছাপ। বাঁশের ঝুড়ি গামছা দিয়ে সাজিয়ে তৈরি হবে মণ্ডপের বিভিন্ন অংশের অলংকরণ। মাটির সরাকে প্রদীপের আদলে সাজিয়ে গড়ে তোলা হবে বিশেষ আবহ। সাধারণ উপকরণকে শিল্পের ছোঁয়ায় অন্য রূপ দেওয়াই তাঁদের চ্যালেঞ্জ। সুজয়ের কথায়, ‘চিত্রকলার(Chitrakala) মাধ্যমে দেবদেবী এবং পৌরাণিক কাহিনীকে মানুষের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। প্রতিটি ছবি হাতে আঁকতে সময় ও ধৈর্য দুটিই লাগে। মণ্ডপের প্রতিটি অংশ যেন থিমের সঙ্গে মানানসই হয়, সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে চলেছি।’
সবুজ ও নারায়ণও সমানভাবে হাত লাগিয়েছেন এই কাজে। তাঁদের কাছে মণ্ডপসজ্জা শুধু পেশা নয়, শিল্পের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যম। দর্শনার্থীরা যখন তাঁদের কাজ দেখে প্রশংসা করেন, তখনই পরিশ্রম সার্থক হয় বলে মনে করেন তাঁরা। পুজোর আলোয় মণ্ডপ ঝলমল করবে, ভিড় জমবে দর্শনার্থীদের। সেই আনন্দের আড়ালে হয়তো আড়ালেই থেকে যাবেন শিল্পীরা। অথচ তাঁদের ধৈর্য, নিষ্ঠা আর সৃজনশীলতা ছাড়া মণ্ডপের এই সৌন্দর্য পূর্ণতা পেত না। ‘চিত্রকলা’ তাই শুধু একটি থিম নয়, নেপথ্যের শিল্পীদের শ্রম ও ভালোবাসারও সাক্ষর।
