অনীক চৌধুরী, জলপাইগুড়ি: চারদিকে যখন কৃত্রিম প্লাস্টিক ও ফাইবারের বাড়বাড়ন্ত বাংলার শতাব্দীপ্রাচীন শিল্পকে গ্রাস করছে, ঠিক তখনই হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে এক নিঃশব্দ বিপ্লবের সুর বাঁধছে রায়কতপাড়া বারোয়ারি দুর্গাপুজো কমিটি। এবার ৯৭তম বর্ষে পা দিল এই পুজো (Durga Puja 2026)। প্রায় শতবর্ষের মাইলফলকে দাঁড়িয়ে তাদের এবারের ভাবনা ‘বাঁশের কেল্লা’। এটি কেবল একটি ঐতিহ্যের মণ্ডপ নয়; প্লাস্টিকমুক্ত পৃথিবীর ডাক দেওয়ার পাশাপাশি এই কেল্লার প্রতিটি বাঁশের খাঁজে লুকিয়ে রয়েছে সমাজের বিশেষভাবে সক্ষম কয়েকজন মানুষের আত্মমর্যাদা ও স্বনির্ভরতার জীবন্ত রূপকথা। আধুনিকতার চটকদারি ভিড়ে কোণঠাসা হস্তশিল্পকে বাঁচাতে, প্লাস্টিক ও থার্মোকলকে পুরোপুরি বিদায় জানিয়ে পরিবেশবান্ধব পুজোর ডাক দিয়েছে রায়কতপাড়া।
প্রায় সাড়ে আট লক্ষ টাকা বাজেটের এই পুজোমণ্ডপ সেজে উঠছে বাঁশ, কাঠ ও পরিবেশবান্ধব কাপড়ের মেলবন্ধনে। বাঁশের ঝুড়ি, ধামা থেকে শুরু করে নিত্যদিনের চেনা সামগ্রী দিয়েই নিপুণ দক্ষতায় রূপ পাচ্ছে এক রাজকীয় কেল্লা। পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক শুভাঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘হারিয়ে যেতে বসা বাংলার লোকশিল্পকে ফিরিয়ে আনাই আমাদের মূল সংকল্প। প্লাস্টিক ও ফাইবার পৃথিবীকে গিলে খাচ্ছে। সেই ধ্বংস রুখতে আমরা চেয়েছি পরিবেশবান্ধব সামগ্রী দিয়েই মণ্ডপ গড়তে। আর এই কাজে আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন শহরেরই একদল বিশেষ শিল্পী, যাঁদের হাতের কাজ চোখ জুড়িয়ে দেবে।’ মণ্ডপের অন্দর ও বহিঃদৃশ্যের যাবতীয় সূক্ষ্ম কারুকাজ ফুটিয়ে তুলছেন বিশেষভাবে সক্ষম শিল্পীরা। মণ্ডপের দেওয়ালে ও স্তম্ভগুলোতে বাঁশের নিখুঁত ডেকোরেশনের পাশাপাশি ফুটে উঠবে চিরায়ত গ্রামবাংলার নানা চোখজুড়ানো দৃশ্যপট। মেঠোপথ, নদী কিংবা কুঁড়েঘরের কোলাজ একমনে তাঁরা তৈরি করছেন। উৎসবের মরশুমে দূষণের বিরুদ্ধে রায়কতপাড়ার ‘বাঁশের কেল্লা’ যেন এক স্নিগ্ধ প্রতিবাদ। সেই প্রতিবাদের কারিগর হয়ে এই বিশেষ শিল্পীরা দেখিয়ে দিচ্ছেন— সহানুভূতি নয়, সঠিক সুযোগ পেলে এঁদের হাত ধরেই তৈরি হতে পারে বাংলার লোকশিল্পের সবচেয়ে শক্তিশালী দুর্গ।
The publish Durga Puja 2026 | ‘বাঁশের কেল্লা’য় রূপকথা বুনছেন শিল্পীরা, জলপাইগুড়ির রায়কতপাড়ার পুজো appeared first on Uttarbanga Sambad.
