অমৃতা দে, সিতাই: সেই ১৯৯৯ সালের কথা। ভারতীয় সেনাবাহিনীর আরেকটি বীরগাথা রচিত হয়েছিল কার্গিল যুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে হারিয়ে। প্রায় তিন দশক হতে চললেও সেই বীরত্ব ভোলেনি গোটা দেশ, ভোলেনি সিতাইয়ের (Sitai) সীমান্তবর্তী বরথর গ্রাম। এবার এই গ্রামের দুর্গাপুজোতেই (Durga Puja 2026) সেই যুদ্ধের স্মৃতি ফুটে উঠবে। বীর শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে স্থানীয় বরথর উৎসাহী সংঘের এবারের থিম ‘কার্গিল যুদ্ধ’।
যদিও বরথর গ্রামটি সীমান্তবর্তী বলে স্থানীয় বাসিন্দারা সশস্ত্র সীমান্ত রক্ষীবাহিনী দেখে অভ্যস্ত। তবে কার্গিলের যুদ্ধ তাঁদের কাছে এতদিন ছিল দূরের এক ইতিহাস, টেলিভিশনের পর্দা কিংবা সংবাদপত্রের পাতায় দেখা কিছু ছবি। এবার সেই ইতিহাসই চোখের সামনে হাজির হতে চলেছে। পুজোমণ্ডপে থিমের মণ্ডপ তৈরির কাজ জোরকদমে চলছে। যুদ্ধের সময়কার নানা দৃশ্যকে জীবন্ত করে তুলতে কয়েক মাস ধরে কাজ করে চলেছেন গ্রামেরই বাসিন্দা ও থিমশিল্পী কাজল বর্মন। কার্গিলের দুর্গম পাহাড়, ভারতীয় সেনা, সামরিক গাড়ি, ট্যাংক, কামান থেকে শুরু করে যুদ্ধবিমান, সবকিছুই ফুটিয়ে তুলবে যুদ্ধের সেই পরিবেশ, তথা দেশের জন্য আমাদের সেনার আত্মত্যাগের কাহিনী। নব্বইয়ের দশকের শেষে সেই সময়টা ভেসে উঠবে বড়দের স্মৃতিতে, নতুন উপলব্ধি হবে নবপ্রজন্মের ছেলেমেয়েদের। থিমশিল্পী কাজল বর্মন বলেন, ‘কার্গিল যুদ্ধের সময়কার বিভিন্ন চিত্র যতটা সম্ভব বাস্তবভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছি। সেনার লড়াই, পাহাড়ি যুদ্ধক্ষেত্র এবং যুদ্ধের নানা দৃশ্য মণ্ডপে তুলে ধরা হবে। আশা করছি দর্শণার্থীদের ভালো লাগবে।’
দর্শণার্থীরা এই দেশাত্মবোধমূলক এই থিমের প্রশংসা করবেন বলে মনে করছেন পুজোর অন্যতম আয়োজক সনজিৎ বর্মনও। সিতাই ব্লক সহ আশপাশের অঞ্চলের বাসিন্দারাও এই মণ্ডপে ভিড় করবেন বলে আশা তাঁর। সীমান্তের মাটিতে দাঁড়িয়ে দেশের বীর শহিদদের স্মরণে কার্গিল যুদ্ধের সেই অধ্যায়কে তুলে ধরার উদ্যোগে ইতিমধ্যেই উৎসাহ বেড়েছে গ্রামবাসীদের মধ্যে। যুদ্ধের স্মৃতি আর পুজোর আবহ দুইয়ের মেলবন্ধনে বরথরের ছোট্ট গ্রাম এবার হয়ে উঠতে চলেছে এক অনন্য শ্রদ্ধাজ্ঞাপন মঞ্চ।

