আলিপুরদুয়ার: দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2026) আনন্দে মেতে উঠবেন বন্দিরাও। মহিলা বন্দিদের সঙ্গে অনেক সময় শিশুরাও থাকে। তাদের জন্য নতুন পোশাকও আনা হয়েছে। পুজোর প্রসাদ পাবেন আলিপুরদুয়ার সংশোধনাগারের (Alipurduar Correctional Dwelling) বন্দি থেকে আবাসিকরা। পুজোর চারদিন বন্দিদের জন্য স্পেশাল মেনুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্যান্ডেল তৈরি করেছেন বন্দিরা। কারাগারে আলোকসজ্জার অনুমতি নেই। তাই শোলা দিয়ে ঝাড়বাতি তৈরি করেছেন তাঁরা। বন্দিদের তৈরি সেই ঝাড়বাতি প্রশংসা কুড়িয়েছে পুলিশকর্তাদের।
ষষ্ঠীর বোধন থেকে দশমী পর্যন্ত সংশোধনাগারের পুজো নিয়ম-নির্দেশিকা মেনেই হয়। অষ্টমী পুজোয় বাইরে থেকে পুরোহিতকে ডাকা হয়। এবার পুজোর তিথি সকালে। তাই কাজ ভাগ করে পুজোর আয়োজন চলছে। পঞ্চমীতে প্রতিমা আনা হয়েছে। কারাগারের কর্তারাই পুজোর উপকরণ পৌঁছে দিয়েছেন। মহিলা বন্দিরাও ফল কেটে দেওয়া থেকে শুরু করে আলপনা দেওয়া সহ অন্যান্য কাজকর্ম করছেন।
অষ্টমীর অঞ্জলি, সন্ধিপুজোয় প্রদীপ জ্বালানো, ভোগের প্রসাদ খাওয়ার অনুষ্ঠানে অংশ নেন কারাকর্মীরাও। পুজোর দিনগুলিতে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নাচ, গান, আবৃত্তি, ধুনুচি নাচ, নাটক পরিবেশন করেন বন্দিরা।
পুজোর কয়েকদিন খাবারের রুটিন মেনু বদলে যায়। মাছ, মাংস সহ বিশেষ খাবার তালিকা থাকে। আলিপুরদুয়ার কারাগারের ভারপ্রাপ্ত সুপারিন্টেন্ডেন্ট জয়ন্ত চক্রবর্তী বলেন, ‘এবারও সংশোধনাগারে পুজোর আয়োজন করা হয়েছে।’ সংশোধনাগারের এক কর্তা বলেন, দুর্গাপুজোর আনন্দে বন্দিরাও যাতে সকলে শামিল হতে পারেন, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকে। মহিলা ও শিশুদের নতুন পোশাক দেওয়া হয়। এ ছাড়া স্পেশাল মেনুরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সংশোধনাগার ছাড়াও আলিপুরদুয়ার পুলিশ লাইন ও আলিপুরদুয়ার থানার আবাসিকদের দুটি পুজোয় অংশ নেবেন পুলিশকর্মীরা। সেখানে পুজোর বিভিন্ন কাজে পুলিশকর্মীরাই দায়িত্বে থাকেন। ডিউটির ফাঁকেই পুজোর আয়োজন করতে হয়। ডিউটি না থাকলে পুজোর কাজ ভাগ করে নেওয়া হয়। রাতে বা ডিউটি শেষ হলে পুলিশকর্তারাও অংশ নিতে আসেন দুটি পুজোয়।
আলিপুরদুয়ার পুলিশ সুপার অমিতকুমার সাউ বলেন, ‘পুজোর সময় পুলিশকর্মীদের কাজ বেড়ে যায়। পুলিশ লাইনে পুজো হলে ডিউটি শেষ হলে অনেকে অংশ নিতে পারেন। এছাড়া আবাসিকরাও রয়েছেন।’

