তাপস মালাকার, নিশিগঞ্জ: পুজোর আনন্দে ঢাকের শব্দ শোনার আগেই অনেকের কানে বাজে অন্য এক শব্দ—‘দাদা, চাঁদাটা একটু দেবেন?’ রসিদ বই হাতে পাড়ার পথে বেরিয়ে পড়া মানুষগুলোর কাছে পুজো মানে শুধু নতুন জামা, মণ্ডপ বা প্রতিমা নয়, পুজো (Durga Puja 2026) মানে দায়িত্বও। কারও কাছে চাঁদা তোলা প্যাশন, কারও কাছে পরিশ্রমের, আবার কারও কাছে নিজের পাড়ার পুজোটাকে টিকিয়ে রাখার দায়। তাই ব্যস্ততা, অনীহা কিংবা ‘না’ শোনার অস্বস্তি সরিয়ে প্রতি বছরই তাঁরা নেমে পড়েন ‘চাঁদার চক্করে’।
ভোরের হাটে টোটো থামানো, দুপুরে দোকানের সামনে দাঁড়ানো, সন্ধ্যায় বাড়ির দরজায় কড়া নাড়া—পুজোর আগে এটাই তাঁদের রুটিন। কেউ স্কুলে পড়ান, কেউ ব্যবসা করেন, কেউ চাকরি করেন। তবু এই ক’টা দিন তাঁদের পরিচয় একটাই—পুজোর কালেকশন টিমের সদস্য। নিশিগঞ্জ হাটে ভোরেই হাজির বাপন ঘোষ, সুমিত দাস সহ তাঁদের দল। কৃষিপণ্য কিনে টোটোয় ফিরছেন পাইকাররা। তাঁদের থামিয়ে রসিদ ধরানো। তারপর শুরু চাঁদার অঙ্ক নিয়ে দরকষাকষি। কেউ হাসিমুখে টাকা দেন, কেউ বলেন পরে দেবেন।
মুখে হাসি থাকলেও ভিতরের হিসাবটা কঠিন। চাঁদা উঠবে ধীরে, কিন্তু মণ্ডপ, প্রতিমা, আলো সবকিছুর বায়না দিতে হবে আগে। নিশিগঞ্জের (Nishiganj) এক পুজো কমিটির সদস্যের কথায়, ‘ইতিমধ্যেই কয়েকজন সদস্য ১০ হাজার টাকা করে নিজের পকেট থেকে দিয়েছেন। পুজোটা তো থামিয়ে রাখা যায় না। আগে বায়না দিতে হবে। চাঁদা উঠলে পরে সেই টাকা তোলা হবে।’
আবার পুজোর আনন্দে সবাই শামিল হতে চাইলেও রসিদ বই হাতে রাস্তায় নামতে চান না অনেকেই। চাকরি, ব্যবসা কিংবা নিজের ব্যস্ততায় কয়েকজনকেই বারবার ছুটতে হয়। নিশিগঞ্জের পুজো কমিটির সদস্য মৃত্যুঞ্জয় কালোয়ারের কথায়, ‘সদস্যদের অনেকেই চাঁদা তুলতে ঘুরতে অনীহা দেখান। তাই সদস্য চাঁদা বাড়িয়ে, আড়ম্বর কমিয়ে বাজেট সামলাতে হয়।’ মাথাভাঙ্গা শহরের নামী এক পুজো কমিটির সদস্য এবার হয়রানি কমাতে সঙ্গে রাখছেন অনলাইন কিউআর কোড। তবু প্রযুক্তি আসুক, রসিদ বই থাকুক—পাড়ার পুজোর আবেগের কাছে ‘চাঁদার চক্কর’-এর ঝক্কি এখনও হার মানে।

