Durga Puja 2026 | রাজ আমলের ঐতিহ্য মেনে বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা মন্দিরে মহানবমীতে সম্পন্ন নয় কুমারীর পুজো

শিক্ষা
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন
শারদোৎসব ২০২৬

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: শারদোৎসবের (Durga Puja 2026) নবমীর তিথিতে রাজ আমলের প্রাচীন সাবেকি ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখে বর্ধমানের (Burdwan) ঐতিহাসিক সর্বমঙ্গলা মন্দিরে অনুষ্ঠিত হলো নয় কুমারী মায়ের পুজো। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এখানে দেবী দুর্গার নয়টি পৃথক রূপের পুজো হয়ে থাকে। তার মধ্যে অন্যতম হল- কালিকা, মালিনী, সুভগা, কব্জিকা, কালসন্দর্ভা ও উমা। এই অনন্য ও ঐতিহ্যবাহী কুমারী পুজো চাক্ষুষ করার জন্য এদিন দূরদূরান্ত থেকে আসা অসংখ্য ভক্তের ঢল নামে সর্বমঙ্গলা মন্দির চত্বরে। প্রতিপদের দিন রাজাদের খনন করা ঐতিহ্যবাহী কৃষ্ণসায়র থেকে জল ভরা ঘটস্থাপনের মধ্য দিয়েই মূলত বর্ধমান সহ সমগ্র রাঢ় অঞ্চলে দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, বর্ধমানের রাজারা জন্মসূত্রে পাঞ্জাবি হলেও পরবর্তীকালে বিভিন্ন রাজ্যের বধূরা এই পরিবারে আসার ফলে নানা সংস্কৃতি ও লোকাচারের এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটেছে এখানে। তবে নবরাত্রি পর্যন্ত সমস্ত প্রাচীন নিয়ম মেনে সর্বমঙ্গলা মন্দিরের এই পুজোপাঠ আজও সমগ্র রাঢ়বঙ্গের অন্যতম প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে।

রাঢ়বঙ্গের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক মন্দিরগুলির মধ্যে সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দির অন্যতম। বর্ধমানের বাহির সর্বমঙ্গলা এলাকায় বসবাসকারী চুনুরীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত কষ্টি পাথরের তৈরি অষ্টাদশভুজা দেবীমূর্তিটিই এখানকার প্রধান অধিষ্ঠাত্রী দেবী। ১৭৪০ সালে রাজা কীর্তি চাঁদ এই অষ্টাদশী দেবীমূর্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করেন, এবং সেই থেকেই দেবী সর্বমঙ্গলা নামে পূজিত হয়ে আসছেন। বর্ধমানবাসীর দীর্ঘদিনের বিশ্বাস অনুযায়ী, মন্দিরে পুজিত হওয়া এই সর্বমঙ্গলা মূর্তিটি মূল মন্দির নির্মাণের থেকেও অনেক বেশি প্রাচীন, যার কাল নিয়ে হাজার বা দুই হাজার বছরের পুরোনো হওয়ার জনশ্রুতি রয়েছে। মাত্র বারো ইঞ্চি দৈর্ঘ্য এবং আট ইঞ্চি প্রস্থের এই কষ্টিপাথরের সিংহবাহিনী মহিষাসুরমর্দিনী মূর্তিটি প্রতিষ্ঠার পর পরবর্তী সময়ে রাজা মহতাব চাঁদ দেবীর এই বর্তমান মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন। যদিও কালের নিয়মে রাজতন্ত্র কিংবা রাজ আমল আজ আর নেই, তবুও দেবীর আরাধনা ও নিয়মনিষ্ঠায় বিন্দুমাত্র ছন্দপতন ঘটেনি। অন্যান্য জায়গায় সাধারণত অষ্টমীর দিন কুমারী পুজো হওয়ার প্রথা থাকলেও, সর্বমঙ্গলা মন্দিরে (Sarbamangala Temple) নবরাত্রির রীতি মেনে চিরকালই নবমী তিথিতে এই পুজো সম্পন্ন হয়ে আসছে।

রাজ আমলের অবসান ঘটার পর তৎকালীন মহারাজা উদয় চাঁদ ১৯৫৯ সালে একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করে প্রাচীন এই মন্দির পরিচালনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব তাদের হাতে অর্পণ করেন। সেই থেকেই অদ্যাবধি ওই ট্রাস্টি বোর্ডই মন্দিরের সমস্ত পুজো-অর্চনার যাবতীয় দায়িত্ব অত্যন্ত সফলভাবে সামলে চলেছে। মন্দিরের প্রধান পুরোহিত অরুণ কুমার ভট্টাচার্য এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, “প্রথা মেনেই নবমী তিথিতে সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরে নয় কুমারী পুজোর আয়োজন করা হয়। সেই রাজ-আমল থেকে আজও একইভাবে সাবেকি রীতি মেনেই পুজো পাঠ হয়ে আসছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে পুজোর চারদিন ষোড়শোপচারে দেবীর আরাধনা করা হয় এবং অতীতে এখানে মহিষ ও পাঁঠা বলির প্রথা থাকলেও বর্তমানে তা সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এছাড়া একসময় সন্ধিপুজোর মহালগ্নে কামান দাগার প্রথা চালু থাকলেও ১৯৯৭ সালে ঘটিত একটি বিস্ফোরণের পর থেকে সেই ঐতিহ্যও বন্ধ করে দেওয়া হয়। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে রাজ আমল হারিয়ে গেলেও দেবী আরাধনাকে কেন্দ্র করে ভক্তদের আবেগ ও উদ্দীপনা বিন্দুমাত্র হ্রাস পায়নি, যার ফলে পুজোর পাঁচদিনই তিল ধারণের জায়গা থাকে না এবং হাজারে হাজারে ভক্ত পুজো দিতে সমবেত হন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *