সুভাষ বর্মন, ফালাকাটা: উৎসব এলে ওঁরাও ভাসেন আনন্দে। এঁদের মুখেও হাসি ফোটে। পুজোর দিনগুলিতে একসঙ্গে শামিল হন। ওঁরা হলেন মজিবর রহমান, নুর ইসলাম থেকে তুষারকান্তি বর্মন। ধর্ম আলাদা কিন্তু উৎসবের আমেজ সকলে একসঙ্গে উপভোগ করেন। আর তাতেই যেন সার্থক হয়ে ওঠে ফালাকাটার (Falakata) ভৈরবহাটের পুজো (Durga Puja 2026)। হিন্দুদের পাশাপাশি মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষও পুজোয় চাঁদা দেন। আবার ভোগপ্রসাদও গ্রহণ করেন। সম্প্রীতিই এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ।
গত আঠারো বছর ধরে এই পুজো হচ্ছে। এবার পুজোর ১৯তম বর্ষ। এলাকাবাসীরা জানাচ্ছেন, এখানে দুর্গাপুজো বা ইদ—সব উৎসবেই সকলে একসঙ্গে মিলিত হন। ইদের আনন্দে যেমন হিন্দুধর্মাবলম্বীরা মেতে ওঠেন, তেমনই দুর্গাপুজোয় শামিল হন মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেকেই। তাঁরা পুজোর চাঁদা দেন। অষ্টমীতে ভোগপ্রসাদও খান।
দুই দশক আগে ওই এলাকায় পুজোর সময় ঢাকের শব্দ শোনা যেত না। তবে এখন ছবিটা বদলেছে। ভৈরবহাটের পাশেই জলদাপাড়া বনাঞ্চল। বুনো হাতি ঢুকে পড়ে এলাকায়। পুজোর সময় এলাকাবাসী বুনোর ভয়ে ঘরবন্দি থাকতেন। পরে নিজেদের এলাকায় পুজো শুরু হয়। হিন্দুদের পাশাপাশি মুসলিমরাও পুজোর আয়োজনে এগিয়ে আসেন। এই পুজোটির জন্য প্রথমবার ১০০ টাকা চাঁদা দিয়েছিলেন মোক্তার আলি মিয়াঁ নামে এক ব্যক্তি। তারপর থেকে হিন্দু-মুসলিম সবার উদ্যোগে ভৈরবহাটের পুজো হয়ে ওঠে সর্বজনীন। প্যান্ডেল করে পুজোর আয়োজন করা হয়। এছাড়া পুজোর দিনগুলিতে নানা অনুষ্ঠানও চলে।
অষ্টমীর দিন ভোগের প্রসাদ হিসেবে খিচুড়ি খাওয়ানো হয়। মুসলিমরা সেই ভোগ গ্রহণের পাশাপাশি পুজোর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখেন ও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণও করেন। স্থানীয় মজিবর রহমানের কথায়, ‘আমরা গ্রামের সবাই মিলেমিশে থাকি। দুর্গাপুজোয় আমরা চাঁদা দিই। সবরকমভাবে সহযোগিতাও করি।’ আবার নুর ইসলামের বক্তব্য, উৎসবের ক্ষেত্রে ধর্ম কোনও বিষয় নয়। ইদও যেমন সবারই উৎসব, দুর্গাপুজোও সর্বজনীন।
পুজো কমিটির সম্পাদক তুষারকান্তি বর্মনের কথায়, ‘সম্প্রীতির বার্তা নিয়েই আমাদের পুজোটা শুরু হয়। সেই ঐতিহ্য আমরা বজায় রাখছি। পুজোর সব আয়োজনে মুসলিম ধর্মের বাসিন্দাদের সহযোগিতা মেলে।’ এবার পুজোর অনুষ্ঠানে এলাকার দুঃস্থদের বস্ত্রদান করা হবে বলেও কমিটির সভাপতি শ্যামল মজুমদার জানিয়েছেন। পাশাপাশি আইনি সচেতনতা ও বন্যপ্রাণী বিষয়ক সচেতনতা শিবিরও করা হবে। এছাড়া পুজো কমিটির প্রতিনিধি পেশায় স্কুল শিক্ষক পার্থ অধিকারীরও বক্তব্য, ‘উৎসব, অনুষ্ঠানে এখানে ধর্মীয় ভেদাভেদ থাকে না।’

