পিকাই দেবনাথ, কামাখ্যাগুড়ি: পুজো আসতে আর মাত্র ২৩ দিন বাকি। চারদিকে ব্যস্ততা। মণ্ডপসজ্জা, প্রতিমা থেকে আলোকসজ্জায় একে অন্যকে টক্কর দিতে হিসেব মিলিয়ে নিচ্ছেন পুজো উদ্যোক্তারা। এই আবহে কামাখ্যাগুড়ি স্টেশন চৌপথি দুর্গাপুজো কমিটির পুজোর (Durga Puja 2025) প্রস্তুতিও তুঙ্গে। এবার পঞ্চাশতম বর্ষে এই পুজো। অর্থাৎ সুবর্ণ জয়ন্তী। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানাল, এবারে মণ্ডপ তৈরি হবে প্রাচীন মন্দিরের আদলে। পুজোমণ্ডপের ভেতরে বাঁশের বিভিন্ন ধরনের নকশার কাজ ফুটে উঠবে। এছাড়া মণ্ডপের ভেতরে বিভিন্ন দেবদেবীর ছবি অঙ্কিত থাকবে।
স্টেশন চৌপথি দুর্গাপুজো কমিটির সম্পাদক শিবেশ সাহার বক্তব্য, ‘যাঁরা এই পুজোর প্রথম উদ্যোক্তা ছিলেন তাঁদের বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হবে। যাঁরা জীবিত নেই তাঁদের পরিবারের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে। এই পুজো কমিটি শুধু শারদোৎসবের সঙ্গে নয়, বিভিন্ন সেবামূলক কাজে জড়িত। কোভিডকালে দুঃস্থদের আর্থিক সহায়তা করা হয়েছিল।’ গত ১৪ অগাস্ট দুর্গাপুজো কমিটির পক্ষ থেকে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। মহালয়ায় স্বাস্থ্য শিবির করা হবে। এছাড়া এই পুজোকে কেন্দ্র করে বস্ত্রদান ও চারাগাছ বিতরণ করা হয়।
সুবর্ণ জয়ন্তীতে পুজোর বাজেট প্রায় আট লক্ষ টাকা। বাইরে থেকে শিল্পীদের এনে মণ্ডপ তৈরি করা হচ্ছে। মণ্ডপের উচ্চতা হবে প্রায় ৫০ ফুট, আর চওড়ায় ৪০ ফুট। অন্যতম আকর্ষণ, কামাখ্যাগুড়ির রাস্তাঘাট সাজবে চন্দননগরের আলোকসজ্জায়।
প্রতিবছরের রীতি অনুযায়ী এবছরও প্রতিমা থাকছে সাবেকি রূপে। আলিপুরদুয়ারের শোভাগঞ্জ সংলগ্ন নোনাই থেকে প্রতিমা আনা হচ্ছে। প্রতিমার উচ্চতা প্রায় ১৪ ফুট, চওড়া প্রায় ১৮ ফুট। চতুর্থীর দিন মণ্ডপে আনা হবে প্রতিমা। এই পুজোকে কেন্দ্র করে সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত দিনরাত চলবে সাধারণ মানুষের মধ্যে খিচুড়ি বিতরণ।
স্থানীয় বাসিন্দা তথা পুজো উদ্যোক্তা অসীম সাহার কথায়, ‘কামাখ্যাগুড়ির সকলের আবেগ এই পুজোর সঙ্গে জড়িত। সারাবছর ধরে এই দিনগুলোর জন্য অপেক্ষা করে থাকেন মানুষ।’
