দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: রামমোহন রায়, বিদ্যাসাগরের মতো মনীষীদের কথা তো আমরা সকলেই জানি, মানি এবং স্মরণ করি। কিন্তু এঁরা তো আর একদিনে সাধারণ থেকে অসাধারণ হয়ে ওঠেননি। এঁদের রত্ন হয়ে ওঠার পেছনে তাঁদের মায়েদের ভূমিকা অপরিসীম। মাতৃশক্তির আরাধনায় (Durga Puja 2025) এবারে এই রত্নগর্ভাদের তুলে ধরে এক ভিন্ন আবেগ জুড়ে দিতে চাইছে রূপাহার যুব সংঘ।
৫৬তম বর্ষে রাজা রামমোহন রায় এবং বিদ্যাসাগরের উদ্দেশ্যে মণ্ডপ নির্মাণ করা হচ্ছে। মণ্ডপের ভেতরে থাকবে বিভিন্ন রত্নদের ছবি এবং তাঁদের সমাজসংস্কারমূলক কাজ। দেবীপ্রতিমা যেন স্বয়ং এই রত্নদের মা রূপে মণ্ডপে বিরাজমান হবে। মণ্ডপের দেওয়ালজুড়ে থাকবে বাংলায় মেয়েদের অধিকার রক্ষার লড়াই। সতীদাহ, বিধবাবিবাহ ফুটিয়ে তোলা হবে থিমে। থাকবে একরাশ আলোর বন্যা। তদানীন্তন সময়ে নারীদের সমাজের অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হত। রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা রোধ করে কিংবা বিদ্যাসাগর বিধবাবিবাহ রোধ করে সম্মান জানিয়েছিলেন নারীর অধিকারকে। আজকের দিনে নারীর নিরাপত্তা আর সম্মান রক্ষার বার্তা দিতেই এমন উদ্যোগ পুজো কমিটির। এবারের থিমের নাম দেওয়া হয়েছে ‘রত্নগর্ভা’। মায়ের স্নেহ ভালোবাসা, শক্তি আর সৃষ্টিশীলতার সমন্বয়ে শিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় মণ্ডপ আলাদা রূপ পাবে। পুজো কমিটির সম্পাদক পলাশ বিশ্বাসের কথায়, ‘দেওয়ালজুড়ে থাকবে বাংলায় মেয়েদের অধিকার রক্ষার লড়াই। সতীদাহ, বিধবাবিবাহ ফুটিয়ে তোলা হবে থিমে। প্লাইউড, বাঁশ ও কাঠ দিয়ে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। থাকছে চন্দননগরের আলোকসজ্জা এবং রায়গঞ্জের কুমোরটুলির শিল্পী ভানু পালের প্রতিমা।’ এবারের পুজোর বাজেট প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা বলে তিনি জানালেন।
এদিকে রায়গঞ্জের (Raiganj) ছত্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের দুর্গাপুজোর এবছর ১৬তন বর্ষ। রায়গঞ্জ শহর থেকে প্রায় সাত কিমি দূরে ছত্রপুরে অবস্থিত রায়গঞ্জ রামকৃষ্ণ মিশনের এই শাখা কেন্দ্রটি। আগেও এখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে দুর্গাপুজো ও অষ্টমীতে কুমারীপুজো হত। দায়িত্ব বদলের পরেও সেই ধারা বদলায়নি।
রামকৃষ্ণ মিশনের দুর্গাপুজো হল এক গভীর আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক উদযাপন, যা বৈদিক রীতি অনুসরণ করে অনুষ্ঠিত হয়। স্তোত্র পাঠ ও ভক্তি সহকারে আরাধনা করা এই পুজোতে শহরের মানুষ পুজোর দিনগুলিতে ভিড় করেন। সেসময় ছত্রপুরের মিশন প্রাঙ্গন ভক্তদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণীয় স্থান হয়ে ওঠে। এখানকার পুজো মূলত বেলুড় মঠের নিয়ম মেনেই হয়।
