জলপাইগুড়ি: উৎসবের আবহ শুরুর আগেই প্রতিমা (Durga idol) তৈরির কেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমান একশ্রেণির উৎসাহী তরুণ-তরুণী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা। তবে সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media)-য় রিল তৈরি বা ছবি শিকারিদের অতিরিক্ত দৌরাত্ম্যের জেরে মৃৎশিল্পীদের কাজের স্বাভাবিক ছন্দ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল। এই পরিস্থিতিতে ধর্মীয় ঐতিহ্য ও ভাবাবেগ বজায় রাখতে জলপাইগুড়ির (Jalpaiguri) মৃৎশিল্পীদের স্বস্তি দিয়ে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (Vishva Hindu Parishad)। সংগঠনের পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছে যে, চক্ষুদানের মাধ্যমে মাতৃপ্রতিমা সম্পূর্ণ হওয়ার আগে যেন কেউ ক্যামেরার সামনে রিল বা ছবি তোলার প্রতিযোগিতায় মেতে না ওঠেন।
জলপাইগুড়ি জেলা বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সহ-সভাপতি কৃষেন্দু গুহ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে তাদের এই বার্তাটি কোনো জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া “ফতোয়া” নয়, বরং সনাতন সংস্কৃতির পবিত্রতা ও মর্যাদা রক্ষার্থে একটি আন্তরিক আবেদন মাত্র। ছবি তোলার ক্ষেত্রে সুরুচিপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিমাকে পেছনে রেখে দৃষ্টিকটু অঙ্গভঙ্গি করে রিল বা ভিডিও শুট করার প্রবণতা মায়ের প্রতিমার অমর্যাদার শামিল। মৃৎশিল্পীদের কর্মশালায় দীর্ঘক্ষণ ধরে লাইটিং ও শুটিংয়ের সরঞ্জাম নিয়ে তরুণ প্রজন্মের এই অবাধ যাতায়াতে কাজের ক্ষতি তো বটেই, অনেক সময় অসাবধানতাবশত প্রতিমার অঙ্গহানি বা আংশিক ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়।
শিল্পীদের কষ্ট ও ক্ষোভের কথা মাথায় রেখে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের এই পদক্ষেপে বেজায় খুশি কুমারটুলির কারিগররা। তাদের অভিযোগ, শুটিংয়ের নামে এসে দীর্ঘ সময় দখল করে রাখা ছাড়াও অনেকে কোনোরকম আর্থিক সহায়তা না করেই ফ্রিতে ভিডিও শুট করেন। উলটে প্রতিবাদ করলে অসন্তোষ প্রকাশ করেন অনেকে। তাই এই নির্দেশ কার্যকর করতে কুমারটুলির প্রবেশদ্বারে বা নির্দিষ্ট চত্বরে সংগঠনের তরফে ব্যানার ও লিফলেট টাঙিয়ে প্রচার চালানোর দাবি জানিয়েছেন শিল্পীরা। সংগঠনের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সাড়া মিলেছে এবং কুমারটুলিগুলোতে গিয়ে সরাসরি প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে, যা এই পুজো মরশুমে কাজের পরিবেশ অনেকটাই সহজ করে তুলবে বলে দাবি মৃৎশিল্পীদের।

