Dudhia | মমতার পরিদর্শন নিয়ে সংশয়

Dudhia | মমতার পরিদর্শন নিয়ে সংশয়

শিক্ষা
Spread the love


রণজিৎ ঘোষ, দুধিয়া: দুর্যোগ কাটিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছে পাহাড়। দার্জিলিং জেলাজুড়েও দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির হিসেব কষার কাজ চলছে। ভেঙে যাওয়া রাস্তা কিংবা সেতুগুলির পুনর্নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে। শনিবার দুধিয়ায় (Dudhia) পৌঁছে দেখা গেল, বালাসন নদীর ওপরে হিউমপাইপের সেতু তৈরির কাজ চলছে। দু’দিকে পাথর ফেলে অ্যাপ্রোচ রোডও একইসঙ্গে তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এদিন সকাল থেকেই নদীতে হিউমপাইপ বসানোর কাজ করছে বরাতপ্রাপ্ত সংস্থা। কালীপুজোর দিন থেকে এই অস্থায়ী সেতু দিয়ে যান চলাচলে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। এরই মধ্যে রবিবার ফের উত্তরবঙ্গে আসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বিকেল অথবা মঙ্গলবার সকালে তিনি পাহাড়ে উঠবেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। এবারের সফরে তিনি মিরিকের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখতে পারেন। তবে মিরিকে মুখ্যমন্ত্রীর থাকার মতো বিশেষ কোনও পরিকাঠামো না থাকায় দার্জিলিংয়ে থেকেই তিনি বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখতে পারেন বলে আন্দাজ করা হচ্ছে।

এদিকে, দুধিয়ার রাস্তা তৈরিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাকে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে বলা হয়েছে। এনিয়ে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সন্তোষ তামাং বললেন, ‘শুক্রবার থেকে রাতেও কাজ চলছে। যত দ্রুত সম্ভব রাস্তা চালু করতে দুটি এজেন্সি দিনরাত এক করে কাজ করছে।’ অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর এবারের সফরসূচির কোনও নির্দিষ্ট তালিকা শনিবার রাত পর্যন্ত প্রশাসনের কাছে আসেনি। উত্তরবঙ্গের দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা এবং পুনর্বাসন সহ নানা বিষয়ে নজরদারি চালানোই তাঁর এবারের সফরের মূল কারণ। গত সপ্তাহের মতো এবারও মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি ডুয়ার্সের হাসিমারা সেনা এয়ারবেসে নামবেন। মালঙ্গিতে থেকে ডুয়ার্সের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তিনি প্রশাসনিক কর্তাদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন বলেও জানা গিয়েছে।

তারপর ডুয়ার্স থেকে সড়কপথে সোমবার সকালে উত্তরকন্যায় আসবেন মমতা। সেদিনই বিকেল কিংবা মঙ্গলবার সকালে দার্জিলিংয়ে রওনা হবেন। জানা গিয়েছে, তিনধারিয়া দিয়ে ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক হয়ে বর্তমানে সমস্ত যানবাহন চলাচল করায় মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় পাঙ্খাবাড়ি রোড হয়েই দার্জিলিংয়ে উঠতে পারে। সেখানে পৌঁছে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় আধিকারিক, জেলা প্রশাসন এবং গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (জিটিএ) আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করার কথা রয়েছে তাঁর। তারপর সুখিয়াপোখরি, মিরিকের ক্ষতিগ্রস্ত কিছু এলাকা তিনি ঘুরে দেখবেন বলে জানা গিয়েছে।

উত্তরবঙ্গে দুর্যোগের পর এক সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। এখনও মিরিক থেকে সৌরিণী, সুখিয়াপোখরি থেকে সিওক কিংবা তাবাকোশি সর্বত্রই ধ্বংসের ছবি স্পষ্ট। ত্রাণশিবিরে রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। বিভিন্ন ব্লকে কমিউনিটি কিচেন বানিয়ে সেখান থেকে দুর্গতদের জন্য দু’বেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিন্তু অসহায় মানুষগুলি কবে আবার তাঁদের মাথার ওপর ছাদ ফিরে পাবেন তা এখনও অনিশ্চিত। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির হিসাব রাজ্য সরকারের কাছে জমা পড়বে। সেইমতো আর্থিক বরাদ্দ করা হলে বাসিন্দাদের জন্য ঘর তৈরির কাজ হবে। তবে ব্যাপারটি সময়সাপেক্ষ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *