উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আবু ধাবির (Abu Dhabi) বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের (Barakah Nuclear Plant) কাছে এক ভয়াবহ ড্রোন হামলার (Drone Assault) ঘটনা ঘটেছে। আবুধাবি থেকে ২৭০ কিলোমিটার পশ্চিমে পারস্য উপসাগরের উপকূলে আল দাফরা শহরে অবস্থিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি শুধু সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (ইউএই) নয়, সমগ্র আরব বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এদিন দুপুরে আকস্মিকভাবে তিনটি ড্রোনকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের দিকে উড়ে আসতে দেখেন নিরাপত্তারক্ষীরা। সঙ্গে সঙ্গে তৎপর হয়ে তাঁরা দুটি ড্রোনকে গুলি করে নামাতে সক্ষম হলেও, একটি ড্রোন সরাসরি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি বৈদ্যুতিক জেনারেটরে গিয়ে আঘাত হানে। মুহূর্তের মধ্যে জেনারেটর রুমে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। তবে দমকল বাহিনীর দ্রুত তৎপরতায় কিছুক্ষণের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
আবুধাবি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, হামলার পরও বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়নি। আমিরশাহির প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই ঘটনাকে ‘অহেতুক আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে তিনটি ড্রোন অনুপ্রবেশ করেছিল। তবে তাৎপর্যপূর্ণভাবে, আমিরশাহি সরকার সরাসরি ইরানের নাম নেয়নি। অন্যদিকে, একই দিনে সৌদি আরবের আকাশসীমাতেও ইরাকের দিক থেকে তিনটি ড্রোন ঢুকে পড়ার খবর মিলেছে, যেগুলি অবশ্য নিরাপত্তারক্ষীরা গুলি করে নামিয়েছেন।
এই হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। নয়া দিল্লির পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এই ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পরিস্থিতি যাতে আরও ভয়াবহ না হয়ে ওঠে, সে জন্য সব পক্ষকে সংযত থাকার এবং কূটনৈতিক আলোচনার পথে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে ভারত। পাশাপাশি, রাষ্ট্রপুঞ্জের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন যে তাঁরা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন।
ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই আমিরশাহি ও সৌদি আরব তাদের অর্থনৈতিক ও জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলার জন্য ইরানের দিকে আঙুল তুলে আসছে। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ শুরুর প্রথম সপ্তাহেই আমিরশাহিতে প্রায় ২৮০০ ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছিল তেহরান, যার জবাবে আমিরশাহিও ইরানের লাভান দ্বীপের তেল শোধনাগারে পাল্টা আঘাত হানে। সম্প্রতি ইরান ও আমেরিকার মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও, বারাকাহ পরমাণু কেন্দ্রের এই নতুন হামলা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়াকে ভেস্তে দিয়ে নতুন করে যুদ্ধকালীন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
