Inside Battle BJP | বিজেপির প্রার্থী তালিকা নিয়ে ক্ষোভ? ‘শিরদাঁড়া সোজা’ রাখার বার্তা দিয়ে ভোট প্রচারে ‘অভিমানী’ নেতার

Inside Battle BJP | বিজেপির প্রার্থী তালিকা নিয়ে ক্ষোভ? ‘শিরদাঁড়া সোজা’ রাখার বার্তা দিয়ে ভোট প্রচারে ‘অভিমানী’ নেতার

শিক্ষা
Spread the love


দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: তবে কি এবারে রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিতে চলেছেন রায়গঞ্জে বিজেপির দাপুটে নেতা মানসকুমার ঘোষ (Inside Battle BJP)। রায়গঞ্জে প্রার্থী ঘোষণার পর তাঁকে প্রচার করতে মাঠে দেখা যাচ্ছে না। বাড়ি থেকেও তিনি বেরোচ্ছেন না বলেও জানা গিয়েছে। তারপরই শনিবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মানসের (Manas Kumar Ghosh) ‘ব্যক্তিত্ব’ এবং ‘শিরদাঁড়া সোজা রাখা’র বার্তা ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়েছে। তিনি লিখেছেন, ​‘ভুল আমার হলে মাথা নত করাটা আমার আভিজাত্য, কিন্তু বিনা দোষে মাথা উঁচু করে রাখাটা আমার ব্যক্তিত্ব। মেরুদণ্ডটা সোজাই রাখা ভালো, নত হওয়া সবার অভ্যেস নয়…।’

এবারে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে থেকেও শেষপর্যন্ত দল প্রার্থী না করাতেই ‘অভিমানী’ তিনি বলে মনে করছেন অনেকে। নাকি প্রার্থী বাছাই নিয়ে ক্ষোভ সাংসদের উপর? যদিও এই বিষয়ে সাংসদ কার্তিকচন্দ্র পাল এবং বিজেপির জেলা সভাপতি নিমাই কবিরাজকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁদের প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মানসকে এই পোস্ট ঘিরে প্রশ্ন করা হলে তিনি এড়িয়ে যান। তাহলে প্রার্থী নিয়ে কি ক্ষোভ? কেন প্রচারে নেই? প্রশ্ন করলে মানসের উত্তর, ‘দল যাকে যোগ্য মনে করেছে তাকে প্রার্থী করেছে। দলের সঙ্গে আছি। এখনও নির্বাচনি দায়িত্ব বণ্টন করা হয়নি। দায়িত্ব দিলে কাজ করব।’

মুখে কিছু না বললেও টিকিট না পাওয়ায় পরোক্ষভাবে তিনি যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকেই বিঁধেছেন তার এই বার্তাতেই স্পষ্ট। হতাশ মানসের অনুগামীরাও। এই নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তৃণমূল সহ অন্য বিরোধী দলের সদস্যরা। রায়গঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী কৃষ্ণ কল্যাণী বলেন, ‘বিজেপি কাকে প্রার্থী করবে সেটা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে বিজেপি যাকে প্রার্থী করেছে তাতে আমার লড়াইটা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে। একেবারে নতুন মুখ। তাই বিজেপির অনেক বাবুই যোগাযোগ করেছেন আমার সঙ্গে।’

মানস ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সহ সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। অন্যদিকে, গত লোকসভা নির্বাচনে সাংসদ কার্তিকচন্দ্র পালের নির্বাচনি এজেন্ট ছিলেন। সেইসঙ্গে ২০২৪ সালে রায়গঞ্জ বিধানসভা  উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হয়ে শিল্পপতি তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। বর্তমানে বিজেপির জেলা সহ সভাপতি। উপনির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরেও ময়দান ছাড়েননি তিনি। বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলনে তাঁকে দেখা গিয়েছে। তাই বিজেপির নীচুতলার কর্মীরা আশাবাদী ছিলেন প্রার্থী হচ্ছেন মানস। তবে এবারে তাঁকে প্রার্থী করেনি দল। রায়গঞ্জে প্রার্থী করেছে দীর্ঘদিনের আরএসএস কর্মী কৌশিক চৌধুরীকে।

ইতিমধ্যে তিনি প্রচারে নেমে পড়লেও জেলার বিজেপি নেতাদের তাঁর সঙ্গে দেখা যাচ্ছে না। নীচুতলার কয়েকজন নেতৃত্বকে নিয়ে প্রচার করছেন তিনি।

প্রার্থী নির্বাচনকে ঘিরে দলের অন্দরে যে যথেষ্ট ক্ষোভ রয়েছে তা শহরে বিজেপির প্রচারকে ঘিরে প্রকাশ পাচ্ছে। ​এখন দেখার,  অভিমানী লড়াকু বিজেপি নেতা ভোটের ময়দানে শেষপর্যন্ত নামেন কি না? না পুরোপুরিভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। জেলা বিজেপি নেতৃত্ব এই নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *