দিনহাটা: ধানখেত থেকে এক যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাল পরিবারের লোকেরা। শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে দিনহাটার ১ নং ব্লকের পুটিমারী ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েতের কারিশাল গ্রামে। জখম যুবকের নাম তৌহিদ রব্বানী। বর্তমানে তিনি শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যুবককে খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের হয়েছে দিনহাটা থানায়। ঘটনায় নাম জড়িয়েছে প্রতিবেশি এক যুবকের।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে হঠাৎ চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পান মজিরুল হক। তিনি তাঁর ভাইয়ের গলার আওয়াজ বুঝতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন ধানখেতে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়ে রয়েছেন তাঁর ভাই তৌহিদ। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান দিনহাটা মহকুমা হাসপাতালে। পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কোচবিহার হয়ে শিলিগুড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী নূরনাহা বেওয়ার দাবি, রাত আটটার কিছু পরে তৌহিদ তাঁর দোকান থেকে বাড়ি ফেরেন। তার অল্পক্ষণ পরেই তাঁর বাড়ির পাশ থেকে চিৎকার চ্যাঁচামেচির আওয়াজ শুনতে পান। তিনি পাশের বাড়ির এক মহিলাকে ডেকে ঘটনাস্থলে যান। টর্চের আলোয় দেখা যায় দুই ব্যক্তি ধানখেতে লড়াই করছে। তাঁদের মধ্যে একজন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে, আর তার ওপরে চেপে বসে রয়েছে পাশের বাড়ির এক যুবক। তাঁরা সেখানে পৌঁছতেই সেই যুবক পালিয়ে যায়।
প্রতিবেশীরা জানান, ধারালো অস্ত্র ও পাথর দিয়ে তৌহিদকে আঘাত করা হয়েছে। এমনকি তাঁর জিভের একটি অংশ কেটে গেছে বলেও দাবি তাঁদের। তৌহিদের পরিবারের অভিযোগ, আমির হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা পূর্বপরিকল্পিতভাবেই এই হামলা চালিয়েছে তৌহিদের উপরে।
গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, অভিযুক্ত প্রতিবেশী আমীর হোসেনের পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই অস্ত্র কারবার ও বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িত। স্থানীয় মহিলা সাহিদা খাতুনের কথায়, “বহুবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু বললেই তারা মারতে আসে। তাই চুপ থাকতে হয়েছে।” এই ঘটনার পর ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা গ্রাম। তাঁদের দাবি, অভিযুক্ত পরিবারকে আর গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
কারিশাল গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য মোন্নাফ হোসেনও গ্রামবাসীর অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, যথেষ্ট প্রমাণ না থাকায় কোনও ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে গভীর রাতে তাদের বাড়িতে সন্দেহজনক লোকজনের যাতায়াত ছিল বলেও জানান তিনি।
ঘটনার পরদিন থেকেই এলাকায় পুলিশি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। দিনহাটা থানার আইসি জয়দীপ মোদক জানান, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তরা এখনও পলাতক।
