প্রসেনজিৎ সাহা, দিনহাটা: দিনহাটার (Dinhata) বুকে এক চিলতে প্রশান্তির নাম ফুলদিঘি। প্রতিদিন যেখানে বয়স্কদের প্রাতর্ভ্রমণ দিয়ে দিনের শুরু হয়, আর পড়ন্ত বিকেলে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে জমে ওঠে তরুণদের আড্ডা। আট থেকে আশি, সবার কাছেই এই পার্ক যেন এক জীবন্ত ডায়েরি, যার পাতায় পাতায় লুকিয়ে আছে শহরের হাজারো স্মৃতি। কিন্তু সেই গল্পের রূপ এখন অনেকটাই ফ্যাকাশে। একসময় পার্কের রঙিন মাছের অ্যাকোয়ারিয়াম বা খাঁচার খরগোশ ও পাখিদের দেখতে ভিড় জমাত শিশুরা। আজ সে সবই অতীত। সন্ধ্যা নামলেই অপর্যাপ্ত আলোর কারণে পার্কের ভেতরে এক অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি হয়, ফলে অনেকেই আর এদিকে পা মাড়াতে চান না।
গল্পটা অবশ্য অন্যরকম হতে পারত। প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ যখন এই পার্কটিকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার চেষ্টা করেন, তখন শহরবাসীও আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কথা ছিল, শিশুদের জন্য আসবে আধুনিক খেলার সরঞ্জাম, আর তরুণদের জন্য তৈরি হবে অত্যাধুনিক একটি ক্যাফে হাউস। রীতিমতো শিলান্যাসও হয়েছিল। কিন্তু এরপরই চিত্রনাট্যে এল বদল। ভোট পরবর্তী বিধিনিষেধ এবং রাজ্যে সরকার বদলের রাজনৈতিক ডামাডোলে সেই উন্নয়নের স্বপ্ন বিশবাঁও জলে। নতুন সরকারের আমলে আদৌ কি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে দিনহাটাবাসীর মনে।
শহরের বাসিন্দা মৃত্যুঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় যেন ফেলে আসা দিনের নস্টালজিয়াই ঝরে পড়ল। তিনি বলেন, ‘ফুলদিঘির সঙ্গে আমাদের যেন নাড়ির টান। ছোটবেলা থেকে শুরু করে যৌবনের কতশত স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই দিঘির পাড়ে। এটি নতুন করে সাজানো হলে শহরের আকর্ষণ আরও বাড়বে।’ অন্যদিকে, ধৃতিমান চৌধুরীর মতো অনেকেই ফিরে পেতে চান সেই পুরোনো দিনগুলো। তাঁর কথায়, ‘আগে ফুলদিঘিতে যে বোটিং ব্যবস্থা চালু ছিল, সেটা আবার শুরু হলে শহরবাসী আনন্দিত হবেন।’
বর্তমান বিজেপি বিধায়ক অজয় রায়ের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমি এখনও বিস্তারিতভাবে অবগত নই। তবে খোঁজ নিয়ে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ করব।’

