Dinhata | মাঠে শরীরচর্চার বদলে নেশার আখড়া! পরিকাঠামোহীনতায় ভুগছে পুঁটিমারি স্টেডিয়াম

Dinhata | মাঠে শরীরচর্চার বদলে নেশার আখড়া! পরিকাঠামোহীনতায় ভুগছে পুঁটিমারি স্টেডিয়াম

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


দিনহাটা: দিনহাটায় শরীরচর্চা ও খেলাধুলোর মাঠ হাতেগোনা কয়েকটা। প্রথমেই যে মাঠের নাম করতে হয় তা হল সংহতি ময়দান। তারপর যে মাঠগুলির নাম আসে তা হল বোর্ডিংপাড়া ও থানাদিঘির মাঠের নাম। তবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কারণে প্রায়ই এই মাঠগুলি ব্যস্ত থাকে। তবে সেদিক থেকে খেলাধুলা বা শরীরচর্চার জন্য খুব বেশি পরিচিত না হলেও খেলোয়াড়দের উপযোগী আরেকটি মাঠ হল শহর সংলগ্ন পুঁটিমারি স্টেডিয়ামের মাঠ। এই মাঠেই অনুশীলন করে কেউ রাজ্য পুলিশে সুযোগ পেয়েছেন, কেউ আবার সীমান্ত রক্ষীবাহিনী, আবার কেউ আর্মিতে সুযোগ পেয়েছেন। আর জীবন গড়ে দেওয়ার এই মাঠে প্রতিদিন সকালে দৌড় অনুশীলন করেন ৩০-৪০ জন তরুণ। তবে যে মাঠ বছরের পর বছর ধরে জীবন গড়ে দিয়েছে সেই মাঠেই নেই ন্যূনতম পরিকাঠামো। আর এর ফলে প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে অনুশীলনে আসা বিক্রমদীপ বর্মন, উজ্জ্বল বর্মন, অচিন্ত্য বর্মনদের।

বাম আমলে দিনহাটা শহর সংলগ্ন পুঁটিমারি-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একটি ফাঁকা জমিতে স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এরপর সরকারিভাবে সেই জমিও নেওয়া হয়। মাঠের চারধারে দেওয়া হয় সীমানা প্রাচীরও। কিন্তু পরবর্তীতে মাঠে ঢোকার উপযুক্ত রাস্তা না থাকায় স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। আর তারপর থেকেই বিভিন্ন সময়ে ও ভোটের আগে এই মাঠটিকে পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম গড়ার দাবি উঠলেও তা অধরাই থেকে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই মাঠের পরিকাঠামো দিনের পর দিন বেহাল থেকে আরও বেহাল হয়ে পড়েছে।
অথচ আজকের দিনে দাঁড়িয়েও এই মাঠে বিভিন্ন খেলাধুলার পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চাও করেন তরুণরা। তবে তাঁদের একাংশের অভিযোগ, মাঠের পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে প্রশাসন একেবারে উদাসীন। আর তাই তো মাঠের সীমানা প্রাচীর থাকলেও তা কে বা কারা খুলে নিয়ে গিয়েছে কোনও হেলদোল নেই কারও। মাঠের একাংশ এখন সমাজবিরোধীদের অবাধ প্রবেশের ঠিকানা হয়ে উঠেছে। এর ফলে রাত হলেই মাঠে বাড়ছে সমাজবিরোধীদের আখড়া। সকাল হলেই দৌড়ের ট্র্যাকে পড়ে থাকছে মদের বোতল, ভাঙা কাচ। আবার কখনো-কখনো দৌড়ের ট্র্যাকে ইচ্ছাকৃতভাবে গর্ত খোঁড়া হচ্ছে। এর ফলে প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সকালে দৌড়োতে আসা তরুণদের।

মাঠে নিয়মিত অনুশীলন করতে আসেন সঞ্জীব বর্মন, শুভজিৎ বর্মন, শংকর সরকার ও গদাই শীলরা। মাঠের দশা নিয়ে শুভজিতের বক্তব্য, ‘বর্ষায় মাঠে জল জমে থাকে। তাই মাঠটি যদি মাটি ফেলে উঁচু করা যায় সেবিষয়টিও প্রশাসনের দেখা উচিত।’ শংকরের কথায়, ‘মাঠে দেওয়াল হলে ভালো হয়। সেইসঙ্গে পানীয় জলের ব্যবস্থা থাকলে সুবিধে হয়।’

এবিষয়ে দিনহাটা মহকুমা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক সুদীপ্ত ঘোষের বক্তব্য, ‘পুঁটিমারি স্টেডিয়াম দিনহাটার অন্যতম বড় মাঠ। মাঠটিতে অনুষ্ঠান তুলনামূলক কম থাকায় এখানে খেলাধুলার চর্চা বেশ ভালো হয়। তাই মাঠটি যাতে পরিকাঠামোগতভাবে উন্নত করা যায় সেবিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলব।’ এবিষয়ে তৃণমূলের শহর ব্লক সভাপতি বিশু ধর বলছেন, ‘মাঠটির পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে ভেবে দেখা হচ্ছে। মাঠের সামনের রাস্তাটি শীঘ্রই পাকা হচ্ছে।’

পুঁটিমারি স্টেডিয়াম নিয়ে সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য শুভ্রালোক দাসের প্রতিক্রিয়া, ‘বাম আমলে যতটা করা হয়েছিল তারপরে মাঠের উন্নয়ন তো হয়নি। উপরন্তু লাগানো ইট খুলে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের দেখা উচিত।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *