কালচিনি: আলিপুরদুয়ারের (Alipurduar) কালচিনি বাগানের শ্রমিক সংখ্যা প্রায় ২ হাজার। রায়মাটাং এবং মধু চা বাগানে শ্রমিক রয়েছেন যথাক্রমে ১২৫০ এবং ৮৫০ জন। নিয়ম বলছে, বন্ধ চা বাগানের শ্রমিকদের এক মাস পর থেকে ফাওলই পাওয়ার কথা। কিন্তু কালচিনি ব্লকের এই তিন বন্ধ বাগানের একটিতেও এখনও ফাওলই চালু হয়নি। এর মধ্যে মধু চা বাগান বন্ধ রয়েছে ১৪ মাস ধরে। কালচিনি এবং রায়মাটাং চা বাগান বন্ধ রয়েছে ৮ মাস ধরে।
রাজ্যে শাসকদলের পরিবর্তন হলেও শ্রমিকদের ভাতা চালু না হওয়ায় বন্ধ চা বাগানগুলোতে শ্রমিক মহলে ক্ষোভ বাড়ছে। দ্রুত ফাওলই চালুর পাশাপাশি বাগান খোলার দাবিও তুলছেন শ্রমিকরা।
শ্রম দপ্তর অবশ্য আশার আলো দেখাচ্ছে। দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, মধু চা বাগানে দ্রুত ফাওলই চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। কালচিনি এবং রায়মাটাং বাগানের প্রক্রিয়া চলছে। কয়েক মাস আগে দলসিংপাড়া চা বাগান খুলেছে। তবে ওই বাগানের শ্রমিকরাও বাগান বন্ধ থাকাকালীন সময়ের ভাতা পাবেন বলে খবর।
বিজেপির চা বাগান শ্রমিক সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাজেশ বারলা সোমবার বলেন, ‘১২ জুলাই উত্তরকন্যায় শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং চা বাগানের সমস্যা নিয়ে বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকে ভাতা চালুর বিষয়টি তাঁকে জানানো হয়। বন্ধ বাগানগুলো দ্রুত খোলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে শ্রম দপ্তর। সেই আশ্বাসও দেন মন্ত্রী।’ বৈঠকে ছিলেন তৃণমূল চা বাগান শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি ওমদাস লোহরা। তিনিও একই কথা বললেন।
মধু চা বাগানের মালিকের লিজ অব্যাহত রয়েছে। তাই শ্রমমন্ত্রীর বাগান খোলার আশ্বাসে আশার আলো দেখছেন ওই বাগানের শ্রমিকরা। তবে কালচিনি ও রায়মাটাং চা বাগানের মালিকের লিজ বাতিল হয়েছে। সেজন্য বাগান খোলা নিয়ে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকতে গিয়ে হোঁচট খেতে হচ্ছে। কারণ বাগানের কোনও বৈধ মালিক না থাকায় ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের চিঠি পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। এবার নতুন কোনও মালিক শ্রম দপ্তরকে চিঠি পাঠালে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে বাগান দুটি খোলার জন্য পদক্ষেপ করতে পারে শ্রম দপ্তর।
সেই পরিস্থিতিতে অবশ্য দুটি বাগানের ব্যাংকের ঋণ, বকেয়া পিএফ, গ্র্যাচুইটির বিপুল অঙ্কের টাকার বোঝা নিতে হবে নতুন মালিকপক্ষকেই। ৩০ জুন শ্রম দপ্তরের তরফে আলিপুরদুয়ারে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকা হলেও সেই বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি।
কয়েক মাস ধরে তিনটি চা বাগান ফিন্যান্সাররা চালালেও কাগজে-কলমে বাগান তিনটি বন্ধ। এর মধ্যে বন্ধ বাগানগুলোর শ্রমিকরা চাইছেন ভাতা চালু হোক। তাতে অন্তত দুইবেলা খাওয়ার সংস্থান হবে তাঁদের। মধু চা বাগানের শ্রমিক বুধুয়া টোপ্পোর কথায়, ‘ভাতা চালু হলে কিছুটা সমস্যা মিটবে আমাদের।’ একই সুর কালচিনি বাগানের শ্রমিক শোভিত লামার গলাতেও।

