অমৃতা দে, দিনহাটা: দিনহাটা (Dinhata) ১ নম্বর ব্লকের মাতালহাট গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তীব্র পানীয় জলের সংকটকে (Water Disaster) কেন্দ্র করে চরম ক্ষোভ ছড়িয়েছে গ্রামবাসীদের মধ্যে। অভিযোগের তির সরাসরি পঞ্চায়েত প্রধান মানবেন্দ্র রায়ের দিকে। স্থানীয়দের দাবি, খোদ প্রধানের বাড়ির সামনেই যেখানে একাধিক পানীয় জলের কল অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে সেখানে গোটা গ্রামের পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানের বাড়ির সামনের বাজার এলাকায় পরপর তিনটি পানীয় জলের কল বসানো হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেগুলিতে জল পড়ছে না। ফলে প্রতিদিন সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। গরমের এই সময়ে পানীয় জলের জন্য দূরদূরান্তে ছুটতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। বিশেষ করে মহিলা ও বয়স্কদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি বলে অভিযোগ।
গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, প্রথম দিকে একটিমাত্র কল প্রধানের বাড়ির সামনে ছিল। পরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরপর আরও কয়েকটি কল অন্যদের দোকানের সামনে বসানো হয়। কিন্তু বর্তমানে সেই কলগুলিও কার্যত অচল। ফলে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সুনীল রায় বলেন, ‘এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই পানীয় জলের সমস্যা চলছে। বারবার জানানো হলেও গ্রাম পঞ্চায়েত কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়নি। এখন পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে মানুষকে জল সংগ্রহ করতে অনেক দূরে যেতে হচ্ছে।’ তাঁর আরও অভিযোগ, সমস্যা বাড়তে থাকলেও প্রধানকে এখন এলাকায় দেখা যাচ্ছে না। এমনকি প্রধানের বাড়ির গেটেও তালা ঝুলছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। অনেকের প্রশ্ন, প্রধানের নিজের বাড়ির সামনেই যদি পানীয় জলের কল অচল অবস্থায় পড়ে থাকে, তাহলে গ্রামের অন্যান্য প্রান্তের অবস্থা কতটা খারাপ হতে পারে তা সহজেই বোঝা যায়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্বাচনের সময় একাধিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে পানীয় জলের মতো প্রাথমিক সমস্যার সমাধানে কোনও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা সমাধানে প্রশাসনকে হস্তক্ষেপ করতে হবে। পাশাপাশি কেন দীর্ঘদিন ধরে কলগুলি অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে এবং সরকারি অর্থ খরচ হওয়ার পরেও পরিষেবা মিলছে না, তা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে। যদিও এই বিষয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মানবেন্দ্র রায়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন না ধরায় তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
