মালদা ও বালুরঘাট: ‘ওই যে, ওই যে!’ জানলায় এক শিশুর মুখ দেখা যেতেই বাইরে জোর চিৎকার। শুনে সেই শিশু চকিতে জানলার ধার থেকে হাওয়া। মালদা (Malda) শহরের পশ্চিম প্রান্তে, ইংরেজবাজার পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাগবাড়ি সংলগ্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠী প্রশিক্ষণ ও বিপণন কেন্দ্রের হোল্ডিং সেন্টার এখন সবার নজরে। রবিবার রাতে তিনজন মহিলা ও ছ’জন নাবালক-নাবালিকাকে এখানে নিয়ে আসা হয়। পাঁচ বছর আগে এই চারতলা এই ভবনে কেন্দ্রে রাজ্য সরকারের ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্পের সাইকেল জোড়া লাগানোর কাজ চলত। সম্প্রতি রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা মেনে এটিকে হোল্ডিং সেন্টার (Holding Centre Thriller) করা হয়েছে। সোমবার দুপুর থেকে সেখানে কড়া পুলিশি প্রহরা ও সরকারি গাড়ির আনাগোনা দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের কৌতূহল বাড়তে থাকে। আশপাশের অনেককেই এসে উঁকিঝঁুকে মারতে দেখা যায়। ভবনটি খুব সামনে অবশ্য যাওয়া কঠিন। পুলিশ ওই ভবনের অনেকটা আগে থেকেই সবার সেখানে যাওয়া আটকে দেওয়া শুরু করেছে। তবুও সবার কৌতূহল কি আর সহজে ঠেকিয়ে রাখা যায়! অনেকে ভবনের অনেকটা বাইরে জমায়েত করছেন। ভিতরে কারা রয়েছেন তা জানতে জোর উঁকিঁুকি চলছে। যাঁদের ভিতরে রাখা হয়েছে তাঁরাও মাঝেমধ্যে জানলা দিয়ে বাইরে দেখার চেষ্টা করছেন।
মঙ্গলবার সেন্টারের নিরাপত্তা ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখতে পুলিশ সুপার, ডেপুটি পুলিশ সুপার এবং ইংরেজবাজার থানার আইসি পরিদর্শনে যান। বিল্ডিংয়ের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা যাচাই করতে দমকলকেও এদিন কাজে লাগানো হয়। অন্যদিকে, বালুরঘাট ব্লকের হাজিপুর গ্রামের কিষান মান্ডি এবং শহর লাগোয়া চকবাখর গ্রামের কর্মতীর্থ ভবনকে সম্ভাব্য হোল্ডিং সেন্টার হিসেবে চিহ্নিত করে আধিকারিকরা পরিদর্শন করেছেন। এনিয়ে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের তৎপরতা এখন তুঙ্গে।
এদিন হোল্ডিং সেন্টার পরিদর্শন শেষে মালদার পুলিশ সুপার অনুপম সিং বলেন, ‘হোল্ডিং সেন্টার নিয়ে আমরা সংবাদমাধ্যমের সামনে বেশি কিছু বলতে পারব না। এখানকার ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখলাম। এখানে প্রাথমিক চিকিৎসার কিছু ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। বিল্ডিংয়ে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে দমকল বিভাগের সহযোগিতা নেওয়া হয়েছিল। তারা নিজেদের মতামত আমাদের জানাবে।’ সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে বলে পুলিশ সুপার জানান।
অন্যদিকে, দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা শাসক বালাসুব্রহ্মণিয়ান টি বলেন, ‘হোল্ডিং সেন্টার তৈরির জন্য উপযুক্ত জায়গা খোঁজার কাজ চলছে। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই সমস্ত বিষয় সংবাদমাধ্যমকে জানানো হবে।’
বর্তমানে রাজ্য সরকারের ‘থ্রি-ডি মডেল’ সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে রয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে রাজ্য সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে। এই খবর ছড়াতেই জেলা পুলিশ অতিসতর্ক হয়ে উঠেছে। পুলিশের অনুমান, মালদায় হোল্ডিং সেন্টার চালু হওয়া বা ফেরত পাঠানোর তথ্য বাংলাদেশে ছড়ালে পুলিশ ও বিএসএফ বাধার মুখে পড়তে পারে। তাই প্রশাসন সেন্টারটিকে সাধারণের নাগালের বাইরে রাখতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা মুজাম শেখ বললেন, ‘এই বিল্ডিংয়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের রাখা হচ্ছে বলে শুনতে পেয়েছি। রবিবার রাতে এখানে কয়েকজনকে নিয়ে আসা হয়। গোটা বিল্ডিংয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।’
