দিনহাটা: বেশিরভাগ প্রশ্নে নিরুত্তর। কিছুক্ষেত্রে মেপে মেপে কয়েকটি শব্দ। ধৃত উদয়ন গুহের পেট থেকে কথা বের করতে কালঘাম ছুটে যাচ্ছে জাঁদরেল পুলিশকর্তাদের। তদন্তকারী অফিসারদের জেরায় কার্যত মুখে কুলুপ এঁটেছেন প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী। এদিকে উদয়নের শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে তাঁকে ‘চাপ’ দিতে কিছুটা হলেও কুণ্ঠিত বোধ করছে পুলিশ। যদিও তাঁকে নিয়ম করে প্রতিদিন দুই-তিনবার মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
উদয়ন তদন্তে সাড়া না দিলেও, আবাস দুর্নীতি কাণ্ডে তৃণমূলের এক সময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যেই উদয়ন দিনহাটা পুরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন সেই সময়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাগজ পুরসভা থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আবাস দুর্নীতিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উদয়ন-ঘনিষ্ঠ একাধিক পুরকর্মীর একটি তালিকা পুলিশ তৈরি করেছে। ধাপে ধাপে তাঁদের ডাকা হতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে ডাকা হয়নি।
উদয়নের বিরুদ্ধে ওঠা কেলঙ্কারির তদন্তে নজরদারি শুরু করেছে রাজ্যের নবগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি দমন কমিশন। শনিবার আবাস, শিশুমঙ্গল ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের দুর্নীতির তদন্ত প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণে দিনহাটায় আসেন কমিশনের সদস্য সচিব এবং এডিজি পুলিশ (উত্তরবঙ্গ) কালিয়াপ্পন জয়রামন, জেলা পুলিশ সুপার যশপ্রীত সিং। তাঁরা ঘণ্টাখানেকের বেশি সময় ধরে উদয়নকে জেরা করেন। সূত্রের খবর, তদন্তকারী অফিসারদের জেরায় উদয়ন সেভাবে সাড়া দেননি। এমনকি সিংহভাগ প্রশ্নের উত্তরে ‘কিছু জানি না’ বলে এড়িয়ে যাচ্ছেন ধৃত তৃণমূল নেতা। এদিকে, আর মাত্র তিনদিন পর ফের আদালতে পেশ করা হবে উদয়নকে। তার আগে তৃণমূল নেতার মুখ থেকে কথা বের করাটাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে পুলিশের কাছে।
গত বুধবার কলকাতার ফুলবাগান থানার সহযোগিতায় উদয়নের আবাসন থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে দিনহাটা থানার বিশেষ টিম। সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ১৫ মিনিট নাগাদ সড়কপথে উদয়নকে নিয়ে তারা দিনহাটা থানায় পৌঁছায়। ওইদিন দুপুরে তাঁকে দিনহাটা আদালতে তোলা হয়। দিনহাটার কোনও আইনজীবী উদয়নের হয়ে সওয়াল করেননি। শেষমেশ কোচবিহারের আইনজীবী অশোক দাস তাঁর হয়ে সওয়াল করেন। বিচারক উদয়নকে ছয়দিনের পুলিশি হেপাজত দেন। সেই অনুযায়ী, আগামী ২৪ জুন তাঁকে ফের আদালতে পেশ করা হবে। উদয়নকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। পুলিশকে এবং উদয়নের ছবি সংবলিত ব্যানারে ডিম ছুড়ে নিজেদের ক্ষোভ মেটান দিনহাটাবাসী।
অন্যদিকে, আবাস দুর্নীতি কাণ্ডে শুক্রবার বিজয় সাহা নামে উদয়ন-ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি অভিযোগ জানান দিনহাটা থানায়। দাবি, তাঁর কাছ থেকে জোরপূর্বক ২০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছিল। তবে শনিবার বা রবিবার নতুন করে দিনহাটা থানায় আর কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। শিশুমঙ্গল কেলেঙ্কারির তদন্তে উঠে এসেছে উদয়ন-পুত্র সায়ন্তন গুহ সহ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু ব্যক্তির নাম।

