উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: বাইশ বছর বয়সে ঘর ছেড়েছিলেন আরএসএস-এর (RSS) প্রচারক হিসেবে। তারপর নকশাল আমল থেকে শুরু করে বাম ও তৃণমূল জমানার বিরুদ্ধে দীর্ঘ কয়েক দশকের মাটি কামড়ে লড়াই। সেই রাজনৈতিক সংগ্রামের ফসল হিসেবে শনিবার ব্রিগেডের ঐতিহাসিক ময়দানে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। আর টেলিভিশনের পর্দায় ছেলের এই উত্তরণ দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না তাঁর অশীতিপর মা পুষ্পলতা ঘোষ।
ঝাড়গ্রাম শহরে মেয়ের বাড়িতে বসে এদিন ছেলের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান দেখছিলেন পুষ্পলতাদেবী। এর আগে দিলীপ ঘোষকে বিধায়ক বা সাংসদ হিসেবে দেখলেও, প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভায় ছেলের স্থান পাওয়াটা মায়ের কাছে এক অনন্য অনুভূতি। আবেগঘন কণ্ঠে পুষ্পলতা দেবী বলেন, “ছেলে মন্ত্রী হয়েছে দেখে খুব ভালো লাগছে। ও অনেক আগে বাড়ি ছাড়লেও মানুষের কাজ করতেই বেরিয়েছিল। আমার বিশ্বাস, যে কর্মের জন্য ও ঘর ছেড়েছিল, আজ তা পূর্ণ হয়েছে। ও দেশের জন্য সব কিছু করতে পারে।” ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের কুলিয়ানা গ্রামের ছেলে আজ রাজ্যের সম্ভাব্য উপমুখ্যমন্ত্রী, এই খবরে গোটা গ্রামেই এখন উৎসবের মেজাজ।
২০১৬-র বিধায়ক বা ২০১৯-এর সাংসদ হওয়ার পর ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে হারের মুখ দেখতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু লড়াই ছাড়েননি দিলীপ বাবু। ২০২৬-এ খড়্গপুর সদর থেকে ফের জয়ী হয়ে সরাসরি মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিলেন বিজেপির এই প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি।
অন্যদিকে, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরেই এক সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎকারে নজর কাড়লেন দিলীপ ঘোষের স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার (Rinku Majumdar)। তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (CM Shuvendu Adhikari) সঙ্গে দেখা করে তাঁকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। স্বামীর এই নতুন দায়িত্ব এবং রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে পরিবারের সদস্যদের এই সক্রিয় উপস্থিতি নতুন সরকারের সূচনালগ্নে এক মানবিক মাত্রা যোগ করেছে।
