উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: হোয়াটসঅ্যাপের হাত ধরে শুরু হওয়া ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে বিতর্ক এবার নতুন মোড় নিল। শুধুমাত্র মেটা নয়, এবার কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের কড়া নজরদারির (Digital Safety) আওতায় উঠে এল জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম (Telegram) এবং সিগন্যাল! সূত্রের খবর, ইউজারনেম ফিচারের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এই দুই সংস্থাকে ইতিমধ্যেই চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্র।
তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সাম্প্রতিক উদ্বেগ অনুযায়ী, এই ‘ইউজারনেম’ ফিচার প্রথাগত ফোন নম্বর-ভিত্তিক চ্যাটিং পদ্ধতির নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবহারকারীরা ফোন নম্বর গোপন রাখার সুযোগ পেলেও, অপরাধীরা এই সুযোগে ছদ্মবেশে প্রতারণা চালানোর বিশাল ক্ষেত্র খুঁজে পাচ্ছে।
কেন্দ্রের পাঠানো চিঠিতে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়েছে:
- পরিচয় জালিয়াতি: ইউজারনেমের আড়ালে ফিশিং বা পরিচয় জালিয়াতির মোকাবিলায় সংস্থাগুলির নিজস্ব সুরক্ষা ব্যবস্থা কতটা সক্ষম?
- ডিজিটাল ক্রাইম: সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে চলা ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ এবং অনলাইন জালিয়াতির চক্রগুলোতে এই ফিচারের অপব্যবহার হওয়ার ঝুঁকি কতটা?
- অস্তিত্বের যৌক্তিকতা: টেলিগ্রামের ক্ষেত্রে কেন্দ্র জানতে চেয়েছে, কেন এই ফিচারটি আদৌ চালু রাখা প্রয়োজন?
ভারতের মাটিতে ৫০ কোটিরও বেশি হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী রয়েছে। তাই মেটার ওপর কেন্দ্রের চাপ সবচেয়ে বেশি। মন্ত্রকের স্পষ্ট নির্দেশ, নতুন কোনো ফিচার ভারতে চালু করার আগে সেটি কোনোভাবেই নাগরিক সুরক্ষার সঙ্গে আপস করছে কি না, তার পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা রিপোর্ট জমা দিতে হবে। নতুন ফিচারের কারণে সাইবার অপরাধের ঝুঁকি বাড়লে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
কেন্দ্রীয় সরকারের এই কঠোর অবস্থান ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা এবং জাতীয় সুরক্ষার ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এই প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে তাদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কী সাফাই দেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

