রোজকার জীবনে আমরা ডিজিটালি কানেক্টেড। সকালে ঘুম থেকে উঠে কতটা হাঁটলেন, সেটা যেমন নির্দিষ্ট অ্যাপ বলে দেবে, তেমনই দিনের মাঝখানে কখন জল কম খেলেন সে ব্যাপারেও সজাগ করে দিতে পারে অ্যাপ। অর্থাৎ বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি আমাদের কাছে একটা ভরসার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ একই সময়ে আমরা ডিজিটাল ডিটক্সেরও কথা বলছি। কারণ, বহু মানুষের কাছে প্রযুক্তি শুধু সমস্যা সমাধানের বা কাজ সহজ করার আলাদিনের প্রদীপ নয়, বরং তা হয়ে উঠেছে নেশার বস্তু। কেউ সারাদিন ফোন স্ক্রল করে মাথায় অতিরিক্ত তথ্যের বোঝা চাপাচ্ছে, কেউ বা দীর্ঘসময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য বা চোখের ক্ষতি করছে। এই পরিস্থিতিতে প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে শারীরিক সমস্যা খানিক নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং মানসিক শান্তির জন্য সঠিক সময়ে প্রযুক্তি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়া – এই দুটো বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রাখবেন – সেটাই আজকের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
ডিজিটাল ডিটক্স (Digital Detox Steadiness) স্মার্ট টেক বনাম ডিজিটাল ডিটক্স : ভারসাম্য রাখবেন কীভাবে বলতে বোঝায়, যখন একজন মানুষ নিজেকে স্মার্টফোন, কম্পিউটার বা ট্যাবের মতো যাবতীয় ডিভাইস এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখেন। এই বিরতি কয়েক ঘণ্টা থেকে শুরু করে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। এটা নির্ভর করে প্রত্যেকের নিজস্ব লক্ষ্য বা প্রয়োজনের ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল ডিটক্সে ঘুমের মান ভালো হয়, স্ট্রেস কমে, মুখোমুখি সংযোগ বাড়ে, কর্মক্ষমতা ও মনোযোগ বাড়ে, শারীরিক ভঙ্গি ভালো হয় ও চোখের ওপর চাপ কমে এবং সর্বোপরি নিজেকে সময়ে দেওয়া যায়।
উপকার অনেক থাকলেও, আজকের দিনে টেকনলজি থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে কাটানো সম্ভব নয়। তাই এমনভাবে ভারসাম্য রাখতে হবে যাতে প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাবগুলো থেকে দূরে থেকে এর সুফলগুলোকে কাজে লাগানো যায়। তাহলে কী করবেন?
সীমানা নির্ধারণ – যে কোনও ডিভাইসের পেছনে কতক্ষণ সময় ব্যয় করবেন, সেটা স্থির করুন। নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় ডিভাইসের ব্যবহার সীমিত করতে পারেন। যেমন, বাড়িতে খাবার টেবিলে প্রত্যেক সদস্যকেই ফোনের ব্যবহার করতে বারণ করতে পারেন কিংবা বেডরুমকে ‘টেক-ফ্রি জোন’ বানাতে পারেন।
উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতনতা – কোনও ডিভাইস ব্যবহার করার আগে নিজেেক প্রশ্ন করুন, কেন ব্যবহার করছেন – সত্যিই কোনও তথ্য খুঁজছেন, নাকি অভ্যাসবশত উদ্দেশ্যহীনভাবে স্ক্রল করতেই ফোন নিয়ে বসেছেন। নিজের কাজের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতন থাকলে তা ডিভাইস ব্যবহারেও পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে।
ইতিবাচক ব্যবহার – মেডিটেশন অ্যাপ, ফিটনেস ট্র্যাকার, প্রোডাক্টিভিটি টুলের মতো বিভিন্ন অ্যাপ আপনার সুস্থতায় অনেকখানি সহায়ক হতে পারে। শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে প্রযুক্তি আমাদের খুব ভালো বন্ধু হতে পারে যদি তা বুঝেশুনে ব্যবহার করা যায়।
চোখের আরাম – চোখের ওপর চাপ কমাতে ২০-২০-২০ নিয়ম মেনে চলুন। একটানা স্ক্রিন দেখার সময় প্রতি ২০ মিনিট অন্তর ২০ সেকেন্ডের ব্রেক নিয়ে ২০ ফিট দূরের কোনওকিছুর দিকে তাকিয়ে থাকুন।
টেক-ফ্রি টাইম – আপনার প্রতিদিনের রুটিনে কিছুটা সময় ‘টেক-ফ্রি টাইম’ রাখতে পারেন। সেটা প্রতি সন্ধ্যায় কয়েক ঘণ্টা হতে পারে, প্রতি সপ্তাহে একদিন হতে পারে বা বছরে অন্তত একবার একসপ্তােহর জন্য হতে পারে।
মাল্টিটাস্কিং এড়িয়ে চলা – যে সময় ডিভাইস ব্যবহার করবেন, সে সময় অন্য কাজ করবেন না। আবার যখন বই পড়বেন, ছবি আঁকবেন বা প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটাবেন, তখন ডিভাইস থেকে পুরোপুরি দূরে থাকুন।
এই সব কৌশল আয়ত্ত করা একদিনে হয়তো সম্ভব নয়। কিন্তু ছোট ছোট পদক্ষেপ দিয়ে শুরু করাই যায়। বিশেষ করে তরুণরা এইসব ছোট ছোট অভ্যাস এখন থেকেই আয়ত্ত করতে পারলে তাদের ভবিষ্যৎ মানসিক স্বাস্থ্য অনেক বেশি সুরক্ষিত থাকবে। মনে রাখবেন, টেকনলজি একটা টুল মাত্র, একে কতটা কীভাবে ব্যবহার করব সেই সিদ্ধান্ত একান্তই আমাদের।

