Dhupguri Water Disaster | চৈত্রেই হাহাকার! ধূপগুড়ির ৪ গ্রামে পানীয় জলের সংকট

Dhupguri Water Disaster | চৈত্রেই হাহাকার! ধূপগুড়ির ৪ গ্রামে পানীয় জলের সংকট

ব্লগ/BLOG
Spread the love


শুভাশিস বসাক, ধূপগুড়ি: ক্যালেন্ডারের পাতায় চৈত্র মাস সবে জাঁকিয়ে বসতে শুরু করেছে, তার মধ্যেই উত্তরবঙ্গের তপ্ত রোদে জলকষ্টে হাহাকার শুরু হয়েছে ধূপগুড়ির (Dhupguri Water Disaster) বিস্তীর্ণ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। মাগুরমারি-১ ও ২, ঝাড় আলতা-২ এবং গাদং-২— এই চারটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দাদের এখন দিন কাটছে এক ফোঁটা পানীয় জলের আশায়। গ্রামজুড়ে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের স্ট্যান্ডপোস্ট বসানো থাকলেও, সেগুলিতে জলের দেখা নেই। কোথাও পাইপ ফেটে পড়ে আছে, আবার কোথাও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্ট্যান্ডপোস্টের চারপাশ জঞ্জালের স্তূপে ঢেকে গিয়েছে। ভূগর্ভস্থ জলস্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাওয়ায় সাধারণ নলকূপ থেকেও আর জল উঠছে না। জলের খোঁজে দূরবর্তী এলাকায় ছোটাছুটি করতে হচ্ছে এখন গ্রামীণ মানুষদের।

মাগুরমারি-১ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান বনশ্রী রায় এলাকার ভয়াবহতা স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘পানীয় জলের (Ingesting Water Downside) তীব্র সংকট রয়েছে আমাদের এলাকায়। এখানে অন্তত একটি বড় জলের রিজার্ভারের প্রয়োজন। আমরা গোটা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েছি, কিন্তু সুরাহা মেলেনি।’ একই সুর শোনা গেল স্থানীয় বাসিন্দা দীপু রায়ের গলায়। তিনি বলেন, ‘কালীরহাট মৌজায় রিজার্ভার থাকলেও তা পুরোপুরি চালু হয়নি। পাইপলাইন বসানোর প্রতিশ্রুতি ছিল, কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি। রোদের তেজ যত বাড়ছে, আমাদের চিন্তা তত বাড়ছে। আগামীদিনগুলো কীভাবে কাটবে, তা ভেবেই আমরা কূল পাচ্ছি না।’

গাদং-২ এবং মাগুরমারি-২ পঞ্চায়েতেও পরিস্থিতি তথৈবচ। বাইশচালা এলাকার বাসিন্দা রাকেশ রায়ের অভিযোগ, ‘গত কয়েক বছর ধরেই আমরা এই সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বারবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি। উলটে জলস্তর দিন-দিন নীচে নামছে। বাড়ির পাম্প বা সরকারি স্ট্যান্ডপোস্ট— কোথাও জল নেই।’ গাদং-২’এর প্রধান পারমিতা রায় সরকারও অসহায়তা প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিটি গ্রামেই হাহাকার। জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি, কিন্তু সমাধান মিলছে না। সামনের গরমে কী হবে, তা ভেবেই বুক কাঁপছে।’

সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ ঝাড় আলতা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে। সেখানকার প্রধান সোনাবালা রায় সরাসরি দপ্তরের আধিকারিকদের দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘বারবার জানিয়েও আধিকারিকরা ভ্রূক্ষেপ করছেন না। রিজার্ভারের কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে আছে। গোটা গ্রাম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।’

এই বিষয়ে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের আধিকারিক অশোক দাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ মহুয়া গোপের দাবি, ‘কেন্দ্রীয় তহবিল না আসাতেই অনেক প্রকল্পের কাজ মাঝপথে আটকে গিয়েছে। বর্তমানে যা কাজ চলছে, তা রাজ্য সরকারের বরাদ্দ করা টাকাতেই হচ্ছে।’ সবমিলিয়ে তপ্ত ধূপগুড়িতে জল-রাজনীতি তুঙ্গে উঠলেও, সাধারণ মানুষের তৃষ্ণা মেটার কোনও ইঙ্গিত আপাতত নেই।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *