শুভাশিস বসাক, ধূপগুড়ি: অক্টোবরের প্লাবনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনও মেলেনি ক্ষতিপূরণ। পরবর্তী ফসল চাষের জন্যে ধান গাছ কাটা খুবই জরুরি। বাধ্য হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ধানের জমিতে আগুন লাগিয়ে দিলেন কৃষকরা। মাগুরমারি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম মল্লিকপাড়া এলাকায় বিঘার পর বিঘা ধানখেতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় (Dhupguri)। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কাঞ্চন সরকার জানান, ক্ষতিপূরণ এখনও মেলেনি। আদতে ক্ষতিপূরণ মিলবে কি না তাও জানা নেই। তিনি বলেন, ‘পরবর্তী ফসল চাষের জন্যে জমি ফাঁকা করা প্রয়োজন। তাই শ্রমিকের খরচ বাঁচাতে জমিতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
তবে কৃষি দপ্তরের আধিকারিকদের কথায়, কৃষকদের জমিতে নেমে প্রচার করা হচ্ছে। তবুও নাড়া পুড়িয়ে জমির ক্ষতি করছে কৃষকরা। এক আধিকারিক বলেন, ‘কৃষকদের নাড়া না পোড়ানোর জন্যেই বলা হয়। কারণ নাড়া পোড়ালে মাটিতে থাকা উপকারী সমস্ত অনুখাদ্য নষ্ট হয়ে যায় এবং জমিরও চাষযোগ্য অবস্থা হারিয়ে যায়।’ জলপাইগুড়ির উপকৃষি অধিকর্তা (প্রশাসক) সুমিত বসাকের কথায়, ‘পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জমিতে গিয়েও কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। বাংলা শস্যবিমার আওতায় কৃষকরা ক্ষতিপূরণ পাবেন।’
কৃষি দপ্তর সূত্রে খবর, কৃষকরা ইচ্ছাকৃতভাবে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। কিছু পরিমাণ জমির ধানে আগুন লাগানো হয়েছে। মূলত দেখা গিয়েছে, গধেয়ারকুঠি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রচুর পরিমাণে ধান ও সবজির ক্ষতি হয়েছে। কৃষি দপ্তরের দাবি, সেগুলি বাংলা শস্যবিমা যোজনার আওতায় ক্ষতিপূরণের জন্যে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, প্রায় দেড় মাস হয়ে গেলেও ক্ষতিপূরণের কোনও ব্যবস্থাই করা হয়নি। এই কারণেই ক্ষিপ্ত রয়েছেন প্লাবনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষকরা। ওই ক্ষোভেই এদিন আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কৃষকরা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রঞ্জিত সরকার বলেন, ‘প্লাবনের জলে গাছের ক্ষতি হয়েছে। যে ধান হয়েছে, সেগুলি থেকে চাল হবে না। তাই পরবর্তীতে আলু চাষের জন্যে জমি তৈরি করতে হবে। আর ধানের জমিতে ধান কাটতে শ্রমিকদের হাজিরা দরকার, একইভাবে সময়ও নষ্ট হবে। তাই বাধ্য হয়ে ক্ষতিপূরণ না পেয়ে ধানখেতের জমিতে আগুন লাগিয়ে দিয়ে জমি পরিষ্কার করা হয়েছে।’
কৃষকদের এই যুক্তি কৃষি দপ্তর মানতে নারাজ। কৃষি দপ্তর বারবার ক্রপ রেসিডিউ ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের সচেতন করলেও তাঁরা আইন উপেক্ষা করে জমির ফসলের অবশিষ্ট অংশ পুড়িয়ে ফেলছেন। অপর কৃষক আনন্দ সরকার বলেন, ‘ক্ষতিপূরণ না পেয়ে লোকসানের স্বীকার হতে হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে আগুন দিয়ে জমি পরিষ্কার করা ছাড়া উপায় ছিল না।’
