Cooch Behar | স্টেডিয়ামে অবহেলায় মহারাজার মূর্তির ভিত্তিপ্রস্তর

Cooch Behar | স্টেডিয়ামে অবহেলায় মহারাজার মূর্তির ভিত্তিপ্রস্তর

শিক্ষা
Spread the love


কোচবিহার: গত দু’দিন ধরে কোচবিহারে মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্রনারায়ণের মূর্তি বসানো নিয়ে কম জলঘোলা হল না। তবে আপাতত উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর ও পুরসভার দ্বন্দ্বের মাঝে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের পর ওই জায়গাতেই মূর্তি বসবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। মহারাজার মূর্তি বসানো নিয়ে জলঘোলা একেবারে শেষ হয়ে গিয়েছে, এমনটাও বলা যাবে না। এক্ষেত্রে মূর্তি বসানোর কথা হচ্ছে সাগরদিঘির পাড়ে। তা নিয়ে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, দুটি দপ্তরই মূর্তি বসানোর কাজ করতে রাজি। কিন্তু সাগরদিঘির পাড় থেকে কয়েকশো মিটারের মধ্যেই কোচবিহার স্টেডিয়ামে প্রায় ১০ বছর ধরে মহারাজার মূর্তি বসানোর জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে রাখা হয়েছে, সেদিকে তো নজর নেই কারও। এক দশক কেটে গেলেও সেখানে মূর্তি তৈরি করা হয়নি। এখন মহারাজার মূর্তি ইস্যুতে তৃণমূল রাজনীতি করছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিজেপি ও সিপিএম।

২০১৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর কোচবিহার স্টেডিয়ামের ভিতরে জেলা ক্রীড়া সংস্থার তরফে মহারাজার পূর্ণাবয়ব মূর্তি বসানোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। কিন্তু তারপর আর কাজ এগোয়নি। ভিত্তিপ্রস্তর একইভাবে পড়ে রয়েছে গত প্রায় এক দশক ধরে। মূর্তি আর তৈরি হয়নি। এদিকে, সম্প্রতি সাগরদিঘি পাড়ের আমতলা মোড়ে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের সামনে মহারাজা জগদ্দীপেন্দ্রনারায়ণের মূর্তি বসানোর কাজ শুরু করেছিল পুরসভা। সেই কাজ উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর আটকে দেয় বলে অভিযোগ। পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহর দ্বন্দ্বের জেরেই সেই কাজ নিয়ে জলঘোলা হয়। পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী টেলিফোন মারফত সমস্যা মেটানোর নির্দেশ দেন উদয়নকে। এবার প্রশ্ন উঠছে, কোচবিহার স্টেডিয়ামে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের এক দশক কেটে গেলেও সেখানে মূর্তি স্থাপন নিয়ে কারও কোনও হেলদোল নেই কেন?

এই প্রশ্নের জবাবে উদয়ন বলেছেন, ‘কোচবিহার স্টেডিয়ামে মহারাজার মূর্তির প্রসঙ্গে আমাকে কেউ কিছু বলেনি। কোনও প্রস্তাবও আসেনি। কেউ প্রস্তাব দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’

জেলা ক্রীড়া সংস্থার দাবি, অর্থাভাবে তারা সেখানে মূর্তি স্থাপন করতে পারছে না। সংস্থার সচিব সুব্রত দত্ত বলেছেন, ‘সরকারি-বেসরকারি যে কোনও সংস্থা যদি মূর্তি তৈরির জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িতে দেয় তাহলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।’ কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ পদাধিকার বলে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ সভাপতিও। প্রশ্ন উঠছে, তিনি তাহলে এতদিন স্টেডিয়ামের প্রস্তাবিত জায়গায় মূর্তি বসানোর উদ্যোগ নেননি কেন? জবাবে রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘আমরা পর্যায়ক্রমে মহারাজাদের অনেক মূর্তি বসানোর উদ্যোগ নিয়েছি। স্টেডিয়ামেরটাও তৈরি করে দেওয়া যায় কি না সেটি দেখা হচ্ছে।’

তবে ১০ বছরেও মূর্তি তৈরি না করার ঘটনায় জেলা ক্রীড়া সংস্থাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে দি কোচবিহার রয়্যাল ফ্যামিলি সাকসেসর্স ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট। সংগঠনের মুখপাত্র কুমার মৃদুলনারায়ণ বলেছেন, ‘যেহেতু জেলা ক্রীড়া সংস্থা উদ্যোগ নিয়ে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল তাই মূর্তি বসানোর জন্য মূল ভূমিকা তাদেরই নিতে হবে। প্রয়োজনে বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে সাহায্যের আবেদন জানাক তারা। আমরা সংগঠনের তরফে জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাছে গিয়েছিলাম। তারপরেও তারা কোনও উদ্যোগ নেয়নি।’

এদিকে, সাগরদিঘির পাড়ে মহারাজার মূর্তি বসানো নিয়ে তৃণমূলের দুই নেতার দ্বন্দ্বের প্রসঙ্গে এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করেন বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন। তিনি বলেন, ‘সাগরদিঘির পাড়ে মহারাজার মূর্তি বসানো নিয়ে তৃণমূল যেভাবে রাজনীতি করছে তাতে কোচবিহারবাসীর ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে। আমরা এনিয়ে আন্দোলনে নামব।’ আর সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের কথা, ‘আগে শুনতাম রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় উলুখাগড়ার প্রাণ যায়। এখন দেখছি তৃণমূল-তৃণমূলে যুদ্ধ হয়, আর সেখানে মহারাজার মূর্তি বসানো নিয়ে সমস্যা হয়।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *