সপ্তর্ষি সরকার, ধূপগুড়ি: সামনের বছর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। রাজ্যজুড়ে এখন চলছে এসআইআর। মুখে এসআইআর-এর তীব্র বিরোধিতা করলেও, এই আবহে জনসংযোগ করার সুযোগ হাতছাড়া করতে নারাজ ঘাসফুল শিবির। এনুমারেশন ফর্ম ফিলআপ করতে মানুষকে সাহায্য করার জন্য তৃণমূলের পক্ষ থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সহায়তাকেন্দ্র খোলা হয়েছে। যার পোশাকি নাম, ‘বাংলার ভোট রক্ষা শিবির’। ধূপগুড়ির ১৬টি ওয়ার্ডেও খোলা হয়েছে এই শিবির। অস্তিত্ব সংকটে ভোগা ধূপগুড়ির প্রাক্তন কাউন্সিলাররা রাজনীতির মাঠে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বেছে নিয়েছেন এই সহায়তাকেন্দ্রগুলোকেই। ধূপগুড়ির বিভিন্ন ওয়ার্ডের ঘাসফুলের সহায়তাকেন্দ্রগুলিতে গেলেই ‘অতি সক্রিয়’ কাউন্সিলারদের দেখা মিলছে। কখনও তাঁরা সাধারণ মানুষকে ফর্ম ফিলআপ করতে সাহায্য করছেন, কখনও বা এসআইআর নিয়ে তাঁদের বোঝাচ্ছেন।
ধূপগুড়ির (Dhupguri) সর্বশেষ পুর বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর। তারপর থেকে চার প্রাক্তন কাউন্সিলার পুর প্রশাসকমণ্ডলীর দায়িত্ব নিয়ে কাজ চালাচ্ছিলেন। পুর প্রশাসকমণ্ডলীর দায়িত্বকালে প্রাক্তন কাউন্সিলাররা নিজের ওয়ার্ডে ছড়ি ঘুরিয়েছেন। কিন্তু চলতি মাসের গোড়ায় পুর প্রশাসনের দায়িত্ব এসডিও-র হাতে চলে যাওয়ায় প্রাক্তন কাউন্সিলাররা ভুগছেন অস্তিত্ব সংকটে। আর তাই অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে তাঁরা মানুষকে সাহায্য করছেন। যদিও এই দাবি মানতে নারাজ ঘাসফুল নেতৃত্ব। ২০০৭ সাল থেকে টানা জোড়াফুল প্রতীকে কাউন্সিলার নির্বাচিত হয়েছেন প্রাক্তন কাউন্সিলার বিপ্লব ঘোষ। বিপ্লব বলেন, ‘আমার আসল পরিচয় আমি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বক্ষণের কর্মী। কাউন্সিলার হলাম কী হলাম না তাতে কিছু যায় আসে না। আপাতত আমাদের কাজ বাংলার ভোট রক্ষা শিবিরে মানুষের সহায়তা করা। বাকি মূল্যায়ন কিংবা কোনও দায়িত্ব দেওয়া হবে কি না, তা একান্তভাবেই দলের সিদ্ধান্ত।’
রাজনৈতিক মহলের ধারণা শুধু নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা নয়, ভবিষ্যতে যখন পুরভোট হবে তার ঘুঁটিও এখন থেকে সাজিয়ে রাখছেন প্রাক্তন কাউন্সিলাররা। এই এসআইআর আবহকে জনসংযোগের জন্য ব্যবহার করতে চাইছেন তাঁরা। যাতে পরবর্তীতে পুরভোট হলে এই সময়ে করা জনসংযোগ তাঁদের ভোট বৈতরণি পেরোতে সাহায্য করে।
যদিও সংশ্লিষ্ট মহলের মত, যতই নেতারা পুরভোটের জন্য ঘুঁটি সাজান দিল্লি এখনও বহুত দূর। অদূর ভবিষ্যতে শহরে পুরভোটের সম্ভাবনা দেখছেন না রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন পর্ব মিটতে মিটতে বর্ষা এসে যাবে। তারপর উৎসবের মরশুম পেরিয়ে ভোট হতে ২০২৭ সাল হয়ে যাবে। কিন্তু তা বলে কি নেতারা চুপ করে বসে থাকতে পারেন! কথাতেই তো আছে, উম্মিদ পে পুরি দুনিয়া কায়েম হ্যায়।
রাজনীতি যে আসলেই সম্ভাবনার শিল্প, তা টের পাওয়া যায় সদ্য প্রশাসকের দায়িত্ব হারানো পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশকুমার সিংয়ের কথায়। তিনি বলেন, ‘কলেজ জীবন থেকে রাজনীতিতে যুক্ত থাকার সুবাদে নানা সময়ে দলীয় এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন পদের দায়িত্ব সামলেছি৷ রাজনীতিতে চিরস্থায়ী বলে কিছু হয় না। শুধু কাজটা করে যেতে হবে। বাকিটা ভবিষ্যতের ওপর ছেড়ে দিতে হবে। সময়ই শেষ কথা বলবে। বর্তমানে আমরা দলের অনুগত সৈনিক হিসেবে মানুষের জন্য কাজ করে চলেছি।’
